
সাদিয়াত হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চোখ, মুখ ও হাত বেঁধে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানীর ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ মে) বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এর আগে ২৫ মে টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সিরাজগঞ্জের সানোয়ার হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৪), আব্দুল হামিদ সরকারের ছেলে সিহাব সরকার (২৭) এবং মৃত ইমান আলী শেখের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৭)।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১৯টি মোবাইল ফোন, যাত্রীর কর্মস্থলের আইডি কার্ড ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তারা। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের ডিবি ও সদর পুলিশের টিম অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং তারা বিভিন্ন সময়ে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠাবো হবে।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে ‘আল ইমরান পরিবহণ’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে সাভারের নরসিংহপুর, বাইপাইল, আশুলিয়া থেকেও কিছু যাত্রী বাসে ওঠেন। এলেঙ্গা পার হওয়ার পরপরই যাত্রীবেশে থাকা ৮-১০ জনের ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। চালক-হেলপার ও যাত্রীদের চোখ, মুখ, হাত-পা বেঁধে, লুট করা হয় টাকাপয়সা, স্বর্ণালংকার। যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে বাসটি ঘুরিয়ে পুনরায় ঢাকার দিকে যেতে থাকে।
চলাচলের সময় ডাকাতরা প্রত্যেক যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে মুঠোফোন, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুটে নেয়। তারা বাসটি নিয়ে সাভারের চন্দ্রা-আশুলিয়া পর্যন্ত যায় এবং রাতভর কয়েকবার ওই এলাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত চক্কর দেয়।
এ ঘটনায় পরদিন বুধবার বিকেলে বাসের যাত্রী মিনু মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন।





























