
স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের আন্তর্জাতিক রামসার সাইট ও দেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাধার টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর ৪৪ কোটি টাকার একটি বড়মাপের সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ইউএনডিপি অর্থায়িত এই প্রকল্পটি ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলবে এবং এটি টাঙ্গুয়ার হাওরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় ৮০০ হেক্টর পাখির আবাসস্থল, ৪০০ হেক্টর জলাভূমি, ৩০০ হেক্টর নলখাগড়া ও ২০ হেক্টর বিল পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে। এতে হাওরের পানির ভারসাম্য রক্ষা,মাছ ও পাখির প্রজনন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য উন্নয়ন এবং প্রতিবেশ ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটবে।পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিকল্প জীবিকার সুযোগ দেওয়া হবে।
এই প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত দুই দিনব্যাপী কর্মশালা ১৯ ও ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে।প্রথম দিনের কর্মশালা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়; সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। পরদিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মেহেদী হাসান মানিক। উভয় কর্মশালা সঞ্চালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাওয়াতা আফনান।
তাহিরপুরের কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড.মোঃ কামরুজ্জামান এনডিসি,যিনি বলেন,টাঙ্গুয়ার হাওর বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জলাভূমি। এর সম্পদ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।এই প্রকল্প হাওর সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সুলায়মান হায়দার,পরিচালক একেএম রফিকুল ইসলাম,পরিচালক হাসান হাছিবুর রহমান,সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক ফেরদৌস আলম,মধ্যনগর ইউএনও উজ্জ্বল রায়,তাহিরপুর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আশিষ আচার্য,টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক রাজু আহমেদ রমজান, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আহম্মদ কবির,প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা.হারুন অর রশিদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেএম মাহফুজুর রহমান, পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাইদ, আধিবাসী নেতা এন্ড্রু সলোমার,সাংবাদিক তানভীর আহমেদ,সৈকত হাসান,রুকন উদ্দিন,টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম এবং গোলাবাড়ি গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি খসরুল আলম।
জেলা পর্যায়ের কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা,সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার এবং ইউএনডিপি প্রতিনিধি আজাদ রহমান। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও হাওরের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত উপস্থাপন করেন।
বক্তারা জানান,অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ নিয়ন্ত্রণ, নলখাগড়া নিধন বন্ধ, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা,বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করা এবং হাওরবাসীর আচরণ পরিবর্তন ছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওরকে টেকসইভাবে রক্ষা করা সম্ভব নয়। তারা সতর্ক করেন যে,হাওরের জলাভূমি সংকুচিত হচ্ছে, পাখির আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে এবং মাছের পরিমাণ কমছে যা পরিবেশগত সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মৃতপ্রায় বিল পুনরুজ্জীবন,জলাভূমির পানিসঞ্চয় ক্ষমতা বৃদ্ধি,নলখাগড়া পুনরুদ্ধার,পাখি মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য উন্নয়নের মাধ্যমে টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনঃস্থাপিত হবে। অধিদপ্তর আশা করছে,সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে টাঙ্গুয়ার হাওর তার ঐতিহ্য,সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য পুনরায় ফিরে পাবে।





























