
আহম্মদ কবির,স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর—দেশের এক অনন্য জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার। এই হাওর সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা গোলাবাড়ি আনসার ক্যাম্পের মাঝি হাসান মিয়া ও কিছু আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ অভিযোগ। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের নামে তারা চোরাচালানের সহযোগী এবং বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে লিপ্ত।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাওরে টহলরত আনসার সদস্য ও মাঝি হাসান নৌযান থেকে টাকা আদায় করছেন। স্থানীয়দের দাবি, এটি নতুন নয়—দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এ অনিয়ম ও চাঁদাবাজি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন,যারা নিয়মিত টাকা দেয়, তাদের নৌকা নিরাপদে হাওর পার হয়। কিন্তু যারা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের হয়রানি করা হয়। প্রশাসন দীর্ঘদিন নীরব, আর আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারি না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে হাওর দিয়ে কয়লা, বালু ও অন্যান্য মালামাল বহনকারী নৌকা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন। প্রতিটি নৌকা থেকে নির্দিষ্ট অংকের টাকা আদায় করা হয়। কেউ অস্বীকৃতি জানালে, আনসার সদস্যদের ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসান মাঝি ভারত থেকে চোরাই পথে আনা শাড়ি, কসমেটিকস, তান কাপড় ও অন্যান্য চোরাচালানের মালামাল হাওরের মধ্য দিয়ে নিরাপদে পারাপারে সহযোগিতা করেন। বিনিময়ে তিনি বড় অংকের টাকা নেন। একই সঙ্গে ইয়াবা, গাঁজা ও মদের ব্যবসায়ও তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ আহমেদ বলেন,
যে ব্যক্তি হাওর রক্ষার দায়িত্বে, সে-ই যদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে জনগণ কার কাছে নিরাপত্তা চাইবে? প্রশাসন কি চোখ বন্ধ করে বসে আছে?”
অভিযুক্ত হাসান মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমরা চাঁদাবাজি করি না। যারা লাইনম্যান,তারাই আমাদের বলে কয়লা ও বালুর নৌকা থেকে ৫০০-১০০০ টাকা নিতে। তাদের অনুমতিতেই টাকা তুলি।”মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন,আমি মাদক বিক্রি করিনি, নিজের খাওয়ার জন্য এনেছিলাম।”তবে কারা ওই লাইনম্যান, জানতে চাইলে তিনি নাম বলতে রাজি হননি।
স্থানীয়রা বলছেন, হাসান মাঝির বিরুদ্ধে একের পর এক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কেন নীরব, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। তাদের ধারণা, কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় থাকায় তিনি দাপটের সঙ্গে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান মানিক বলেন,কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি,মাঝি হাসান সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শুরু করতে হবে। হাওর রক্ষার নামে চাঁদাবাজি, চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রকৃত সংরক্ষণ ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ।





























