
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)টাঙ্গুয়ার হাওর এখন আবারও দখলদার চক্রের কবলে।খাস-কালেকশন ও লিজের নামে হাওরের গভীর জলাশয় দখল করে বাঁশ-কাঠা স্থাপন,বেড়া নির্মাণ ও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে চলছে বেপরোয়া মৎস্য আহরণ।ফলে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে হাওরের মাছের প্রজনন ক্ষেত্র, জলজ উদ্ভিদ ও পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়হাল বিলের অংশ পানিরডুবা ও নয়ানি,এবং পাগলাকোনা বিলের অংশ বাধেরটেক শালধিকা এলাকায় খাস-কালেকশনের নামে দখল করে মাছ আহরণ করছে এক প্রভাবশালী চক্র।অন্যদিকে,রৌহা বিলের পার্শ্ববর্তী টানেরগুল,মাঝেরগুল ও লামারগুল বিল স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে,যেখানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চলছে প্রকাশ্য মাছ শিকার।
টাঙ্গুয়ার হাওরের সীমানা সরকারিভাবে পিলার স্থাপন করে নির্ধারণ করা হলেও,দখলদাররা সেটি অমান্য করে রামসার কনভেনশন ও জাতীয় আইনকে উপহাস করছে।এই অবৈধ কার্যক্রম পরিবেশ সংরক্ষণ আইন,১৯৯৫,বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন,২০১২, এবং জাতীয় জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি,২০০৯ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও হাওরবাসীরা জানান,টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু মাছের ভাণ্ডার নয়,এটি আমাদের জীবনের অংশ।প্রশাসন নীরব থাকলে একদিন এই হাওর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
তাদের দাবি,অবিলম্বে অবৈধ বাঁশ-কাঠা অপসারণ, নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
জানা গেছে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।পাশাপাশি, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের কাছেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে,এখনই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে টাঙ্গুয়ার হাওর অপ্রত্যাবর্তনযোগ্য পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।





























