
শফিকুল ইসলাম
কুমিল্লার তিতাসে আ.লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে সুবিধা ভোগ করা লোকজন দিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মন্টুর বিরুদ্ধে।দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ সূত্র জানা যায়,সদ্য ঘোষিত মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মন্টু আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম ভূইয়া বাবুলের স্বাক্ষর জাল করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আ.লীগের লোকসহ তার আত্মীয় স্বজনকে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিএনপির কমিটিতে স্থান করে দিয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা 2দাখিল মাদরাসা ও এতিমখানার পাহারাদার জসিমউদদীনকে ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। সে প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করতো এরপর আ. লীগের রাজনীতি করেছে। সে স্বৈরাচার আ.লীগের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিয়ন দুর্নীতিবাজ জাহাঙ্গীরের সাথে আ. লীগের শাসনামলে দুধঘাটা দাখিল মাদরাসা ও এতিমখানায় একাধিক মিটিং করে এবং সেই মিটিংয়ে আ.লীগের পক্ষে বক্তব্য দিতেন জসিমউদদীন।ওই মাদরাসার সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের ব্যবসায়িক পাটনার শেখ হাসিনার পিয়ন পানি জাহাঙ্গীর প্রায় আসতো মজিদপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে।এবং মাদরাসায় বিভিন্ন মিটিং হতো আর সেই মিটিংয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিয়ন অবৈধ উপায়ে অর্জিত ৪ শ কোট টাকার মালিক দুর্নীতিবাজ জাহাঙ্গীরকে শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবে এলাকার লোকজনদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতেন মাদরাসার নাইটগার্ড জসিমউদদীন। এরপর জাহাঙ্গীরকে নিয়ে পুরো এলাকায় চুষে বেড়াতেন মাদরাসা নাইটগার্ড জসিমউদদীন।সে সময় জাহাঙ্গীরের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে এমন সব অভিযোগ উঠেছে জসিমউদদীনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর কাছ থেকে।তারা বলেন, সামন্য একজন মাদরাসা নাইটগার্ড হয়ে জসিমউদদীন দীর্ঘ আ.লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকার বহু মানুষের ওপর জুলুম-অত্যাচার করেছে আর সেই জসিমউদদীনকে কীভাবে মজিদপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করলেন মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মন্টু।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, মাজেদুল ইসলাম মন্টুর আপন বড় ভাই হাজী শাহ আলম উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।আ.লীগের শাসনামলে বিএনপির বিভিন্ন মিটিং মিছিলে বাঁধা দিয়ে বিএনপির মিটিং মিছিল পন্ড করে দিতেন হাজী শাহ আলম।আর সেই আ.লীগ পরিবারের লোক হয়ে কীভাবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হয় এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে বইছে সমালোচনার ঝড়! অথচ তিনি মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ততকালীন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম ভূইয়া বাবুলের স্বাক্ষর জাল করে নিজের স্বাক্ষর দিয়ে মজিদপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা দাখিল মাদরাসা ও এতিমখানার নৈশপহরি জসিমউদদীনকে ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করে । খোঁজ নিয়ে জানা যায়,আরও গভীরের খবর। মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মন্টুর আপন বড় ভাই উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি হাজী শাহ আলমের বন্ধু দুধঘাটা দাখিল মাদরাসা ও এতিমখানার সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের ব্যবাসিক পাটনার পানি জাহাঙ্গীর।
মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির মাজেদুল ইসলাম মন্টু তার আপন বড় ভাই উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি হাজী শাহ আলম ও শেখ হাসিনা'র পিয়ন জাহাঙ্গীরের ব্যবসিক পাটনার দেলোয়ার হোসেনের তদবিরেই আ.লীগের লোক জসিমউদদীনকে মজিদপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করে।
সেই দুর্নীতিবাজ পানি জাহাঙ্গীরের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন দুধঘাটা দাখিল মাদরাসা ও এতিমখানাটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্র মাদরাসা নাইটগার্ড জসিমউদদীনকে সেক্রেটারী করেছেন আ.লীগের শাসনামলের শুরুর দিকে। সে মাদরাসা সেক্রেটারী হয়ে আ.লীগের সরকারের বরাদ্দকৃত ১৬ বছরের টাকার হিসাব দেয় নাই।
আর এখন তো তার কাছ থেকে হিসাব চাওয়ার সাহস
নেই কারণ সে এখন মজিদপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
অথচ টাকার অভাবে এতিমখানার ছাত্ররা ঠিক মতো খাবার খাইতে পায় না।এবিষয়ে এতিমখানার কোন
শিক্ষক প্রতিবাদ করলে উল্টো ওই শিক্ষককে হুমকি দিয়ে মারধর করে ওই শিক্ষককে এতিমখানা থেকে তাড়িয়ে দেন জসিমউদদীন।এছাড়াও আ.লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলের বরাদ্দকৃত টাকার পাশাপাশি মাদরাসায় এলাকার মানুষের দানকৃত কোরবানির পশুর চামড়ার টাকাসহ ধান,চাল,ভুট্টাসহ বিভিন্ন মালামাল সে আত্মসাৎ করে নিজের বাড়িতে বিলাসবহুল
এক তলা একটি বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন এবং ব্যাংকে তার অঢেল অর্থ জমা রয়েছে বলে এসব অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সে এতিমখানার অভাব দেখিয়ে তার ব্যক্তিগত পরিবারের লোক দিয়ে প্রবাসীসহ এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সহায়তা এনে সেই সহায়তার টাকা মেরে খেয়ে ফেলেছে এরকম বিস্তর অভিযোগ উঠেছে জসিমউদদীনের বিরুদ্ধে।তিনি দড়িগাও তার নিজ বাড়িতে একাধিক মিটিং করেছিলো শেখ হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীরকে নিয়ে আ.লীগের শাসনামলে পানি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিভিন্ন মিটিংয়ে জসিমউদদীনের অংশ গ্রহণ মূলক লাল চিহ্ন ছবি, দুর্নীতিবাজ পানি জাহাঙ্গীরের ব্যবসায়ীক পাটনার দেলোয়ার হোসেনের আপন ছোট ভাই সানোয়ার হোসেন কুমিল্লা-১(দাউদকান্দি-তিতাস) আসনের নৌকা মনোনীত সাবেক এমপিকে ফুলের টপ দিয়ে বরন করে নেন। সেই আ.লীগের সানোয়ার হোসেনকে ফুল দিয়ে বরন করে নেন মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মন্টু।এছাড়াও দেলোয়ার হোসেনের আপন ছোট বোনের জামাই রেজাউল হক বাহার ভূইয়া ঢাকার কাফরুল থানা আ.লীগের সহসভাপতি। সে আ.লীগের রাজনীতি করে ১৯৭৮ সাল থেকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন পিস্তলধারী আ.লীগের ক্যাডার রেজাউল হক বাহার আত্মাগোপনে রয়েছে।পানি জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে দেলোয়ার হোসেনের এ রহমান কনেক্টসন ফার্মের নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয় দেলোয়ার হোসেন। ওই ফার্মের মালিক দেলোয়ার হোসেন নিজেই।৪০০ কোটি টাকা দুর্নীতির সাথে জড়িত শেখ হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ও কুমিল্লা-১ আসনের নৌকার মার্কার সাবেক এমপির সঙ্গে সানোয়ার হোসেনের লাল চিহ্ন ছবি।এই সানোয়ার হোসেনকেই আবার নতুন করে ফুল দিয়ে বরন করে নেয়া মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মন্টু লাল চিহ্ন ছবি রয়েছে নিউজে।শেখ হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীরের সঙ্গে থাকা ছবিই প্রমাণিত হয় তারা কার লোক। এছাড়া দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, আ.লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে রাজপথে জীবন বাজী রেখে দলের জন্য কাজ করেছি আমরা।আমাদের মূল্যায়ণ না করে দলের ভিতরে আ.লীগের সুবিধা ভোগীদেরকে পদ পদবী দিচ্ছে মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মন্টু।তারা আরও বলেন,মজিদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হুন্ডি ব্যবসায়ী দড়িগাঁও গ্রামের জসিমউদদীন দীর্ঘ আ.লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে বিএনপির ডাকা কোন মিটিং মিছিলে দেখা না গেলেও সে হঠাৎ করে
গত ২৮ মে, মঙ্গলবারের অনুষ্ঠিত তিতাস উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২৫ ইং গলায়
কাউন্সিল কার্ড ঝুলিয়ে অংশ গ্রহণ করে।এরপরই জসিমউদদীন চেয়ারম্যান আ.লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের সাবেক এমপি সেলিমা আহমদ মেরী সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ফেসবুকে ঢুকলেই দেখা যায়, সেলিমা আহমদ মেরী এমপির সাথে জসিমউদদীন
চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিরূপ মন্তব্য করছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।তারা জানান,স্বৈরাচার আ.লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে যাদের জন্য ঘরে থাকতে পারি নাই আজকে তাদেরকে বিএনপির বিভিন্ন মিটিং মিছিল ও সভা-সমাবেশ প্রথম সারির চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এইদিনটি দেখার জন্যই কী আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর স্বৈরাচার আ.লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করেছিলাম।চতুর মাজেদুল ইসলাম মন্টু গেলো বছর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার আ.লীগ সরকারের পতন ঘটলে সে বিদেশ থেকে দেশে এসে তড়িঘড়ি করে মৌটুপী সিকদার রোড সংলগ্ন এলাকায় তার নিজের বাড়িতে তার আপন বড় ভাই উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি হাজী শাহ আলমের গড়ে তোলা উপজেলা কৃষক লীগের কার্যালয় থেকে আ.লীগের সব ছবি সরিয়ে এই কার্যালয়টিকেই মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার বইছে।





























