
বিভিন্ন দেশের ওপর বাড়তি মার্কিন শুল্ক আজ থেকে কার্যকর করছে ওয়াশিংটন। বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার পর থেকে যেসব পণ্য জাহাজে উঠবে সেগুলোর ওপর আরোপ হবে বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক। এমনটাই জানানো হয়েছে হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশে। এদিকে, শুল্কের চাপ কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিচ্ছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। আর শুল্ক কমানোর সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার তৎপর বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা।
অবশেষে কার্যকর হলো বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপ করা বাড়তি মার্কিন শুল্ক। ৩১ জুলাই জারি করা হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, স্থানীয় সময় ৭ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। যা বাংলাদেশ সময়ে ৭ আগস্ট সকাল ১০টা ১ মিনিট।
তবে আগেই জাহাজে তোলা পণ্য ৫ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে সেসব পণ্যের ওপর পুরোনো শুল্কই আরোপ করা হবে। বাংলাদেশের ওপর প্রথম দফায় ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও পরে তা কমিয়ে প্রথমে ৩৫ শতাংশ ও সবশেষ তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনে ট্রাম্প প্রশাসন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বর্তমান শুল্কহার কিছুটা স্বস্তিজনক হলেও তা কমিয়ে আনতে আরও কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে।
বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় টিকে না থাকলেও অর্ডার বাইরে যেতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগবে। এই সময়টা বিকল্প বাজার খোঁজার জন্য কাজে লাগাতে হবে। শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলমান থাকবে। প্রতিযোগী দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো কোনো চুক্তি করে ফেলতে পারে; এজন্য আমাদেরও আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।’
এদিকে, মার্কিন বাজারে বাড়তি শুল্কের প্রভাব মাথায় রেখে সুবিধা আদায়ের কৌশল সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘তাদের এমন কোনো বিকল্প উৎস নেই, যেখান থেকে তারা অনেক কম দামে পণ্য নিতে পারবে। তাই তড়িঘড়ি করে ছাড় দেয়া উচিত নয়।’
এদিকে, বুধবার (৬ আগস্ট) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শুল্ক কমানোর সুযোগ রয়েছে এখনও; যা কাজে লাগাতে চায় সরকার।
তিনি আরও বলেন, ‘ওখানে ভিয়েতনাম আমার প্রতিদ্বন্দ্বী, আবার চীন, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান সবাই আছে। কতগুলো জিনিস আছে বলা যায় না। আমাদের সঙ্গে চুক্তি এখনো সই হয়নি। একটা ফরমাল চুক্তি সই হবে। এখানে আমরা দেখবো কোন কোন জায়গায় আমাদের ডিউটি (শুল্ক) কমাতে হবে। কী কী আমদানি করতে হবে।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল হিসেবে ২৫টি বোয়িং ও ৭ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।







































