
মোহাইমিনুল ইসলাম উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মাটিয়াল আদর্শ বাজার এলাকায় ঘুষের বিনিময়ে দুইটি বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ দিতে এসে চিলমারী জোনাল অফিসের তিনজন লাইনম্যানকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আগে থেকেই পোল টু পোল বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। ওই সংযোগের বিপরীতে দুইটি মিটার স্থাপনের উদ্দেশ্যে গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন জোনাল অফিসের কর্মচারীরা। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকার লেনদেনের কথা ছিল। প্রথমে মোট সাতজন লাইনম্যান ঘটনাস্থলে এলেও পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে চারজন পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করেন।
স্থানীয়দের দাবি, দুইটি মিটার সংযোগ দেওয়ার জন্য ৪০ হাজার টাকার সমঝোতা হয়। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বক্তব্য অনুযায়ী, জোনাল অফিসে আলোচনা করে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে দুইটি মিটার সংযোগ দেওয়ার কথা হয় এবং কাজ শেষে কর্মচারীদের জন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও রাখার কথা ছিল।
এ বিষয়ে সংযোগপ্রত্যাশী মন্টু জানান, জোনাল অফিসে আগেই তার সঙ্গে কথা হয়েছে। সেখানে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে দুইটি মিটার সংযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান এবং জানা গেছে, ওই রাতে মিটার সংযোগকে কেন্দ্র করে খাবার রান্নার পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং কয়েকজন লাইনম্যান খেতে বসেনও। তবে অর্ধেক খাওয়ার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। মাজেদুল ইসলামের বাড়িতে এই খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে, যা তাঁর স্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।
এ সময় জোনাল অফিসের কর্মচারী শাকিল, সাব্বির ও ওয়াদুদকে একটি মোটরসাইকেলসহ স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তারা স্বীকার করেন যে তারা খাওয়া-দাওয়ার উদ্দেশ্যেই সেখানে এসেছিলেন। জনতার চাপে তারা মিটার সংযোগ না দিয়ে পোল টু পোল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থান ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে চিলমারী জোনাল অফিসের এজিএম আলামিন মিয়া বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি এবং সম্পূর্ণ বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন তারা শামীম নামের এক গ্রাহকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে গিয়েছিল।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ঘুষের বিনিময়ে বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।




































