
জাহিদ হাসান মুক্তার, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ): নদী পারাপারের সময় ডিঙি নৌকা ডুবে তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। ৭জন তীরে এসে উঠে।কিন্তু ভাতিজা আবিরকে তীরে দেখতে না পেয়ে তৎক্ষনাৎ নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে ফুফু শাপলা। তলিয়ে যায় সেও। ফিরে আসে লাশ হয়ে। নিখোঁজ রয়েছে শাপলার ভাতিজা আবির ও জোবাইদ নামে দু'জন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের চরআলগী পশ্চিমপাড়া এলাকার বিরই নদীতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন চরআলগী পশ্চিমপাড়া থেকে ৯ জন শিক্ষার্থী একটি ছোট ডিঙি নৌকায় করে নদী পার হচ্ছিল। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছাতেই হঠাৎ উল্টে যায়। সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হয় ৬ জন শিক্ষার্থী। তবে জুবাইদ (৯), আবির (৭) ও শাপলা খাতুন (১৪) পানিতে ডুবে যায়। জানা গেছে, শাপলা খাতুন প্রথমে পানি থেকে তীরে উঠে আসলেও তার ছোট ভাতিজা আবিরকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনজনই নিখোঁজ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বিল্লাল হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিশোরগঞ্জ থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং শাপলার মরদেহ উদ্ধার করে। নিখোঁজ অবস্থায় থাকা আবির ও জুবাইদ একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বিরই নদীর পাড় দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। শাপলা নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি এবং উদ্ধার অভিযান চলছে।” কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন জানান, “ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। নিখোঁজদের না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।” এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।





























