
স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকা তাহিরপুর উপজেলায় আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভা রূপ নেয় এক আবেগঘন ঐক্যের মঞ্চে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন,অভিমান আর দূরত্ব ভেঙে নেতাকর্মীদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে ভেসে ওঠে আনিছ কামরুল ভাই–ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই,যার সঙ্গে মিলিত হয় হাততালি, চোখের জলে ভেজা উচ্ছ্বাস এবং দৃঢ় প্রত্যয়ের বার্তা।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন কামরুজ্জামান কামরুল। মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেক নেতা আনিসুল হক মনোনয়ন না পাওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ক্ষোভ ভুলে প্রকাশ্যেই কামরুলের পাশে দাঁড়ান। মতবিনিময় সভায় দুই নেতাকে একই মঞ্চে বসে ঐক্যের স্লোগান দিতে দেখা যায়,যা নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত দলীয় নেতা-কর্মী,যুবক ও সাধারণ মানুষ সভায় উপস্থিত হয়ে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা প্রেরণ করেন। ধানের শীষ প্রতীক হাতে নিয়ে নেতা ও কর্মীরা বারবার স্লোগান দিতে থাকেন, যেন বহুদিনের বিভাজন এক মুহূর্তে মিলেমিশে গেছে।
মতবিনিময় সভায় আনিসুল হক বলেন,আমি মনোনয়ন পাইনি,তাতে কোনো দুঃখ নেই। দলের ক্ষতি হোক,এমনটা আমি চাই না। আজ থেকে আমার সব শক্তি,সব প্রচেষ্টা কামরুল ভাইয়ের জন্য। কারণ তিনি শুধু প্রার্থী নন,তিনি আমাদের সংগ্রামের প্রতীক।
কামরুজ্জামান কামরুল তার বক্তব্যে বলেন,আজকের এই মুহূর্ত আমাদের জন্য সবচেয়ে গর্বের। আনিসুল হকের মতো একজন ত্যাগী নেতা পাশে থাকলে আমরা একা নই,আমাদের সঙ্গে আছে পুরো হাওরবাসী। এই ঐক্যই আমাদের বিজয়ের শক্তি।
এই ঐক্যের দৃশ্য দেখে স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন,এই স্লোগান শুধু শব্দ নয়, এটা মানুষের হৃদয়ের আহ্বান। আনিছ কামরুল ভাই মানেই দুঃসময়ে পাশে থাকা নেতা,অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী কণ্ঠ।
সভা শেষে দুই নেতা একসঙ্গে হাত তুলে স্লোগান তুলেন আনিস কামরুল ভাই ভাই ধানের শীষে ভোট চাই।দুর্দিনের আনিস ভাই আমরা তোমায় ভুলি নাই। দুর্দিনের কামরুল ভাই আমরা তোমায় ভুলি নাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,মনোনয়ন বঞ্চিত ও মনোনীত নেতার এই প্রকাশ্য ঐক্য সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা। দীর্ঘদিনের বিভাজন কাটিয়ে দলীয় শক্তি এক প্ল্যাটফর্মে এলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি এখন অনেক বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে।আর সেই ঐক্যের বার্তাই আজ হাওরবাসীর মুখে মুখে ফিরে আসছে আনিছ কামরুল ভাই–ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।
আহম্মদ কবির




























