
জাহিদ হাসান মুক্তার, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুস্বাদু, রসালো আর সু-ঘ্রাণের জন্য কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর খ্যাতি আজ দেশজুড়ে। ভরা মৌসুমে ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর এ গ্রামের লিচু বাগানগুলো। লিচু গ্রাম হিসেবে সুখ্যাতি আছে মঙলবাড়িয়া গ্রামের । তবে পাশ্ববর্তী কুমারপুর, নারান্দী এবং হোসেন্দী গ্রামেও লিচু চাষ হচ্ছে । এসব গ্রামের লিচু রফতানি হচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বাইরেও।পাকুন্দিয়া উপজেলায় এ চারটি গ্রামে প্রায় ৭- ৮ হাজার লিচু গাছ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর ফলনও ভালো হয়েছে। চারটি গ্রাম থেকে এবছর ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। স্থানীয় বাজারে অনেক জাতের লিচু উঠলেও ক্রেতাদের চোখ এখন রসে টসটসে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর দিকে। এ লিচুর স্বাদ নেওয়ার জন্য মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে ভিড় করেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লিচুপ্রেমী ক্রেতারা। আকার ও গুনগত মানের উপর ভিত্তি করে প্রতি একশ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। লিচু কিনতে নারায়নগঞ্জ থেকে আসা রুবেল মিয়া বলেন, ‘ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙলবাড়িয়ার লিচু দেখে এখানে এসেছি। ছুটির দিন তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছুটে এসেছি। খুব উপভোগ করছি। সারাদিন এইখানে কাটাবো। মঙলবাড়িয়ার লিচু দেখতে অনেক সুন্দর, খেতেও খুব সুস্বাদু’। প্রতি বছরের মে-জুন মাসে পুরো এলাকা রঙিন হয়ে ওঠে লালচে পাকা লিচুর ছটায়। সকাল হতেই শুরু হয় জমিতে গাছ থেকে লিচু সংগ্রহের ব্যস্ততা। লিচুগাছ মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, নিজের ছাড়াও আরও অন্তত ১৫০টি লিচু গাছ কিনে রেখেছি। ইতোমধ্যে বেচা শুরু হয়েছে। সপ্তাহ খানেক পর সবগুলো গাছের লিচুই বিক্রির উপযোগী হবে। লিচু চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে তিনি আশা করেন। প্রায় ৪০ বছর ধরে লিচুর ব্যবসা করে আসছেন মঙলবাড়িয়া গ্রামের মো. তওহিদ মিয়া। তিনি জানান, লিচু চাষে আমার ভাগ্য ফিরেছে। এ থেকে আয়ের টাকা দিয়েই পড়ালেখা করিয়ে ছেলে-মেয়েদের প্রতিষ্ঠিত করেছি। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছি। এ গ্রামের প্রায় সবাই লিচু চাষের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর-ই আলম জানান, উপজেলার চারটি গ্রামে বহু বছর ধরে লিচুর আবাদ হয়ে আসছে। ওই চারটি গ্রামে প্রায় ৭-৮হাজার লিচু গাছ রয়েছে। প্রত্যেকটি গ্রামেই অনেক পুরাতন লিচু গাছ রয়েছে। এসব গ্রামের মধ্যে মঙলবাড়িয়ার লিচু দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। চারটি গ্রাম থেকে এবছর ৮-১০কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। লিচু দিয়ে যে চারটি গ্রাম এভাবে রঙিন হয়ে উঠেছে, তাদের স্বপ্ন এখন আরও বড়—আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নেওয়া। লিচুর টক-মিষ্টি স্বাদের মাঝেই জেগে উঠেছে কোটি টাকার আশা।





























