
মো কামরুল হোসেন সুমন, মনপুরা:ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ৫নং কলাতলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কবির হাওলাদার বাজার সংলগ্ন উত্তর খালের ওপর দীর্ঘ বছরের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে নির্মিত হয়েছে ১৫০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের ব্রিজ। স্থানীয় বাসিন্দা, বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অর্থায়নে নির্মিত এ ব্রিজ পেয়ে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্ঘ কয়েক বছর ধরে খালটি পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিল একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। সাঁকোটি ভেঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। ফলে খালটি এলাকাবাসীর কাছে আতঙ্ক ও দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করতে সমাজসেবক মোহাম্মদ মোসলেউদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫০ ফুট দীর্ঘ ও চার হাত প্রস্থের একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা ২০ দিনের পরিশ্রমে ব্রিজটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের পর দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ব্রিজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন কলাতলীর প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং কবির হাওলাদার বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বাজারের ব্যবসায়ী ও শতাধিক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে উপস্থিত সবাই মিষ্টিমুখ করেন এবং নতুন ব্রিজ দিয়ে পারাপার করে আনন্দ প্রকাশ করেন। ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ মোসলেউদ্দিন বলেন, “কবির হাওলাদার বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সব সময় আমার পাশে ছিলেন। সবার সহযোগিতা ও কষ্টার্জিত অর্থেই এই ব্রিজ নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। আমি সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, এই ব্রিজ দিয়ে যেন কোনো ট্রলি বা মোটরসাইকেল চলাচল না করে। তাহলে এটি দীর্ঘদিন টেকসই থাকবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে।” স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়া বাজারের উত্তর পাশে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষের বসবাস, যাদের জন্য ব্রিজটি এখন নিরাপদ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাল পারাপার করতে গিয়ে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া, গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া এবং শিশুদের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই ছিল সীমাহীন ভোগান্তি। নতুন ব্রিজ নির্মিত হওয়ায় শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন থেকে নিরাপদে চলাচল করা সম্ভব হবে এবং জরুরি মুহূর্তে রোগী পরিবহনও অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা। এলাকাবাসী বলেন, “যারা নিজেদের অর্থায়নে এই ব্রিজ নির্মাণ করেছেন, আমরা তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। পাশাপাশি যারা এ কাজে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ। এই ব্রিজ আমাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করেছে।” তবে নিজেদের অর্থায়নে ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও এর সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর দাবি, ৫নং কলাতলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হোক। একই সঙ্গে এলাকাবাসী এখানে একটি স্থায়ী সরকারি ব্রিজ নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছেন, যাতে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান হয়। এটি সরাসরি পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা ফেসবুক পোস্টে প্রকাশের উপযোগী করে সম্পাদনা করা হয়েছে।




























