
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের কড়াইবাড়ি চরে জেলা বিএনপির নেতা পরিচয় ও জজ কোর্টের মুহুরী পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ৫নং বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রুমান মিয়া গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম কড়াইবাড়ি চরে গিয়ে নিজেকে জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এবং জজ কোর্টের মুহুরী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ, চাকরি এবং বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে চরের একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে অর্থ প্রদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫/০১/২০২৫ তারিখে দুপুর ২টায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কড়াইবাড়ি চরের ১৪ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে মোট ৫৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রুমান মিয়ার স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর আলম পেশায় জজ কোর্টের মুহুরী পরিচয়ে রুমান মিয়ার শ্বশুর ও এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা করে মোট ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে মোট ৯২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। রুমান মিয়া বলেন,সরকারি প্রকল্পে কাজ ও আমার স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কাজ পাইনি। এখন টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।” কড়াইবাড়ি চরের বাসিন্দা মেরিনা বেগম বলেন, “আমাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন পার হলেও কোনো চাকরি হয়নি। এখন টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে ঘুরানো হচ্ছে।” একই এলাকার বাসিন্দা নুরনবী বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে। কাজের আশায় টাকা দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো কাজ পাইনি। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর আলম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে পারব না।” এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে চাকরি ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর কড়াইবাড়ি চরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




























