
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী আজ (২ অক্টোবর)। এই দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। মন্দিরে আর মণ্ডপে বেজে উঠেছে বিদায়ের সুর। দেবী দুর্গাকে বিদায় দিয়ে এ উৎসবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও একটি বছর।
হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন দেবীদুর্গা। তার এ ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মধ্যে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে উৎসব। এবার মর্ত্যলোক থেকে দেবীদুর্গা স্বর্গে গমণ করবেন দোলায় (পালকি) চড়ে।
মন্দিরের একজন পুরোহিত বলেন, নবমীতে এসেই পূজার ষোলোকলা পূর্ণ হয় এবং বিদায়ের সুর বাজে। দশমীর মধ্য দিয়ে মায়ের বিদায় জানানো হবে।
বুধবার মহানবমী তিথিতে বিহিত পূজা এবং দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এদিন সকাল ৬টা থেকে হয় নবমী বিহিত পূজা। ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে দেওয়া হয় আহুতি। সকালে পূজায় অঞ্জলি নিতে মন্দিরে মন্দিরে হাজির হন ভক্তরা।
পূজা দিতে আসা ভক্তরা বলেন, আমাদের সব কষ্ট দূর করে দেবী দুর্গা চলে যাবেন। এক বছর পর মা আবার আসবেন। আমরা মায়ের কাছে দেশের জন্য কল্যাণ কামনা করেছি। তিনি যেন উন্নতি আর প্রগতিতে আমাদের জীবন ভরিয়ে দেন। বিশ্বজুড়ে যেন শান্তি ফিরে আসে। বন্ধ হয় মানুষে মানুষে সব হানাহানি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছিল। ওইদিন থেকেই দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়। এরপর গত রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ষষ্ঠী থেকে পাঁচ দিনের যে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছিল, বৃহস্পতিবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ আয়োজন। মাঝে সোমবার নবপত্রিকায় প্রবেশ ও স্থাপনে হয় মহাসপ্তমী। পরদিন মঙ্গলবার সকালে কুমারী পূজার পাশাপাশি মহাঅষ্টমীর বিহিত পূজা এবং সন্ধিপূজা হয়।
পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এবছর উপজেলার মুরাদনগর থানার ও বাঙ্গরা বাজার থানার ২২ টি ইউনিয়নে মোট ১৫২টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে মুরাদনগর থানা ৮৭ টি এবং বাঙ্গরা বাজার থানায় ৬৫ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে, বিসর্জন উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে মুরাদনগর উপজেলা জুড়ে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা প্রসাশন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়াও এবছর শারদীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি পূজা উদযাপন কমিটিও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রতিটি মণ্ডপে মণ্ডপে লাগানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি করা হয় মণ্ডপ পাহারার জন্য।


































