
-মুহাম্মদ ইফতেখার হোসাইন
বি.এ অনার্স (অধ্যায়নরত)
আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম
মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আবারও আমাদের সামনে সমাগত পবিত্র রমজান। এটি নিছক একটি মাস নয়; বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সফর। মহান আল্লাহ বলেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।”
— আল-কুরআন, সূরা আল-বাকারা ২:১৮৩
এই আয়াত আমাদের জানিয়ে দেয়, রমজানের মূল লক্ষ্য শুধু ক্ষুধা সহ্য করা নয়; বরং তাকওয়া অর্জন। রোজা মানুষকে আত্মসংযম শেখায়, প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায় এবং আল্লাহভীতি জাগ্রত করে।
রমজান কুরআন নাজিলের মাস। আল্লাহ বলেন:
“রমজান মাস—এ মাসেই নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত।”
— আল-কুরআন, সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫
অতএব এ মাস হওয়া উচিত কুরআনের সাথে সম্পর্ক গভীর করার সময়। তিলাওয়াত, অর্থ বোঝা এবং জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একজন মুমিন তার জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”
— সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম
আরেক হাদিসে এসেছে:
“রোজা একটি ঢাল।”
— সহীহ বুখারী
অর্থাৎ রোজা মানুষকে গুনাহ ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে।
রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে একটি নফল ইবাদত ফরজের সমান এবং একটি ফরজ সত্তর গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তাই এই মাসকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
রমজানের আগমনের আগে আমাদের উচিত আন্তরিক তওবা করা, গুনাহ থেকে ফিরে আসা, মানুষের হক আদায় করা এবং ইবাদতের একটি পরিকল্পনা তৈরি করা। কারণ এই এক মাসের সাধনাই হতে পারে সারা জীবনের পরিবর্তনের সূচনা।
আসুন, আমরা রমজানকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক বাস্তব সফরে পরিণত করি। যেন মাস শেষে আমরা আরও পরিশুদ্ধ হৃদয়, দৃঢ় ঈমান এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী হতে পারি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের পূর্ণ ফায়দা অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমীন।




























