
মোঃ আশিকুর রহমান আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি :-
আজমিরীগঞ্জে বিভিন্ন হাওরে বর্তমানে কম দামে ধান বিক্রি হচ্ছে । এতে উৎপাদন খরচই উঠছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরাঅনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও তা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও হাওরাঞ্চলের কৃষকরা সেই দামের অর্ধেকও পাচ্ছেন না। আজমিরীগঞ্জে বিভিন্ন হাওরে বর্তমানে কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে। এতে উৎপাদন খরচই উঠছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের প্রায় ২০ শতাংশ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। যেসব জমিতে ধান রয়েছে, সেগুলো নিয়েও চরম বেকায়দায় আছেন কৃষকরা। অনেক হাওরে ধান আনার রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় বা অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ঘরে তুলতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি, অনেক জমিতে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তেলের দাম বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে যান্ত্রিকভাবে ধান কাটার খরচও বেড়েছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের ফলে মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহন খরচ প্রায় ধানের মূল্যের সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কম দামে ধান বিক্রি করে চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও তা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জলসুখা ইউনিয়নের নোয়াগড় ও শিবপাশা ইউনিয়নের কয়েক জন কৃষকের সংঙ্গে আলোচনা করলে তাহারা বলেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, আমরা তার কাছাকাছিও পাই না। অতি বৃষ্টিতে অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে, সার ঔষধ অতিরিক্ত দামে ব্যাবহার করা হয়েছ। গুদামে ধান দিতে গেলেও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। এ বিষয়ে সচেতন মহলের মতে, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে সরাসরি সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং আধুনিক গুদাম সুবিধা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি বাজারে নজরদারি বাড়িয়ে সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে এবং কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণ ও প্রণোদনা দিতে হবে।




























