
তপন চক্রবর্তী
বিশেষ প্রতিনিধি
বান্দরবানে ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মারমা, ম্রো, খেয়াং ও খুমিদের ‘সাংগ্রাইং’ নামে সর্ববৃহৎ সামাজিক উৎসব আজ মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। শোভাযাত্রা শেষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে বয়োজ্যেষ্ঠ পূজা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার দিনব্যাপী এই সাংগ্রাইং উৎসব চলবে।
আজ শনিবার(১৩ এপ্রিল) সকাল ৯ টায় এ মঙ্গল শোভাযাত্রা রাজার মাঠ থেকে শুরু করে জেলার প্রধান সড়ক উজানী পাড়া হয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয়। এ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেন বান্দরবানের সাংসদ বীর বাহাদুর উশৈসিং, জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমীসহ সরকারি অন্যান্য কর্মকর্তারাও অংশগ্রহণ করেছেন।
আজ সকাল থেকে নিজেদের ঐতিহ্যের পোশাকে শিশু ও তরুণ-তরুণীরা রাজার মাঠে আসতে শুরু করেন। মারমা তরুণ লুঙ্গি ও নানান রংয়ের শার্ট ও সাংগ্রাইং টি-শার্ট পরে, তরুণীরা বার্মিজ থামি, গলায় মালা ও নানান রংয়ে হাতে ছাতা, চাকমা তরুণেরা ধুতি পরে, মাথায় সাদা পাগড়ি বেঁধে, তরুণীরা পিনন, খাদি, গলায় মুদ্রার মালাসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীও বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের পোশাকে মঙ্গল শোভাযাত্রা অংশ নিতে আসেন। মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে বয়োজ্যেষ্ঠ পূজা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
বান্দরবান উৎসব উদ্যাপন পরিষদের নেতারা গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আজ মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে সাংগ্রাইং শুরু হয়েছে। আগামীকাল বুদ্ধাস্নান ও রাতে বিভিন্ন গ্রামের পিঠা উৎসব তৈরি করা হবে। ১৫ এপ্রিল সোমবার রাজার মাঠে মৈত্রী পানি বর্ষণ ও শেষদিনে একই স্থানে মৈত্রী পানি বর্ষণের পাশাপাশি নিজেদের ঐতিহ্য সংস্কৃতি পোশাকে নৃত্যরত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। জেলায় ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাঙালিদের থেকেও অংশগ্রহণ থাকবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তিন সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মারমাদের সাংগ্রাইং ও ত্রিপুরাদের বৈসু, চাকমা বিজুকে সম্মিলিতভাবে বৈসাবি উৎসব বলা হয়। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বছরের শেষ দুই দিন (২৯ ও ৩০ চৈত্র) ও নতুন বছরের প্রথম দিন (পয়লা বৈশাখ) এই তিন দিন বৈসু, বিজু ও বিষু উদ্যাপন করে। বার্মী বর্ষপঞ্জি অনুসরণে মারমা, খেয়াং, খুমিসহ পাঁচটি জাতিগোষ্ঠী বছরের শেষ দিনে (৩০ চৈত্র) অথবা বাংলা বছরের প্রথম দিনে সাংগ্রাইং উৎসব উদ্যাপন করে থাকেন। খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী বম, পাংখুয়া ও লুসাই এই তিন জনগোষ্ঠী বৈসাবি উৎসব উদ্যাপন করেন না।





























