
আতিক ফারুকী, নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো.দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনাস্থা প্রস্থাব ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের সাথে কথা বলে জানাগেছে,একজন ইউপি সদস্য মৃত্যুবরণ করায় বর্তমানে ১১ জন সদস্য পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।এর মধ্যে সাতজন সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষরকারী সদস্যরা হলেন-মো.আমানুল্লাহ,মোছা.মমতা বেগম,রাজিয়া খাতুন,শামছুন্নাহার,মো.নুরুজ্জামান সিদ্দিকী, আবুল কাশেম ও আব্দুস সামাদ আজাদ।
জানা যায়,রবিবার(১২ এপ্রিল)দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের উদ্যোগে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সামাদ আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্যানেল চেয়ারম্যানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সদস্যরা। সভায় তারা অভিযোগ করেন,প্রকল্প বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি, দুই-তিনজন সদস্যের সঙ্গে যোগসাজশে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ,সমন্বয়হীনতা,সদস্যদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণসহ তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির অভিযোগের কারণে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ আলোচনা শেষে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে প্যানেল চেয়ারম্যান মো.দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়। একই সঙ্গে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ আমানুল্লাহকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।পরে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি লিখিত রেজুলেশন তৈরি করে ওইদিন বিকেলে তা মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও)কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
ইউপি সদস্য আমানুল্লাহ বলেন,দেলোয়ার হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদ পরিচালনায় বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছেন।পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে সীমিত দুয়েকজন সদস্যকে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিভিন্ন প্রকল্প নামে-বেনামে দিয়ে তিনি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।পরিষদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো.দেলোয়ার হোসেন অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত)সঞ্জয় ঘোষ বলেন, অনাস্থা প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























