
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৫নং বল্লমঝাড় ইউনিয়নের রঘুনাথপুর (গিরিংগির) মোড়ে ১ মে (শুক্রবার) জুম্মার নামাজের পর মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “মাদকে না বলি, সুস্থ সমাজ গড়ে তুলি এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্থানীয় যুব সমাজ ও এলাকার সচেতন মহল যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এতে এলাকার তরুণ-যুবক, প্রবীণ ব্যক্তি, সমাজসেবক ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। মানববন্ধনের মাধ্যমে তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন আলি আকরাম শুভ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মানববন্ধনে প্রধান বক্তাদের মধ্যে দক্ষিণ খোলাবাড়ি মাস্টারপাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ দুলু বলেন, “মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়, তাহলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব।”
সমাজসেবক মোনায়েম ইসলাম মোনা তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের এই মানববন্ধন শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলনের সূচনা। আমরা চাই, আমাদের আগামী প্রজন্ম একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে বড় হোক। এজন্য মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
“উত্তরধানঘড়া মাদকবিরোধী আন্দোলন ও সুস্থ সমাজ গঠন কেন্দ্র”-এর সভাপতি আলম বলেন, “মাদক আজ গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই বিস্তার লাভ করছে। এটি রোধ করতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” সংগঠনের সেক্রেটারি হান্নান সরকার বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
সাংবাদিক কাওছার আহমমেদ তার বক্তব্যে বলেন, “উত্তর ধানঘড়া চারমাথায় মাদক বিক্রির বিষয়টি আমি প্রথম সংবাদ আকারে তুলে ধরি। এরপর থেকেই এলাকার যুবসমাজ একত্রিত হতে শুরু করে। আমার সেই উদ্যোগ ও প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করেই আজ একটি বৃহৎ আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু খবর প্রকাশ নয়, সমাজের সমস্যা তুলে ধরে সচেতনতা সৃষ্টি করা। মাদকের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। তারা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আরও জোরালো পদক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে মাদকবিরোধী স্লোগান দেন। কর্মসূচি শেষে তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




























