
মোঃ হাসানুজ্জামান গাংনী
আজ মে দিবস। তবে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার অধিকাংশ দিনমজুর জানেনা মে দিবস কি।আর কি হয়েছিল এই দিনে।অধিকাংশ শ্রমিকি জানিয়েছেন আমরা দিবস দিয়ে কি করব, না খাটলে যখন মুখে ভাত ওঠে না।তাছাড়া আমরা দিবস তো বুঝিনা আমরা দিনমজুর খেটে খেতে হবে এটাই বুঝি।কাজ করলে টাকা পাবো সেই টাকা দিয়ে পরিবারের মুখে ভাত তুলে দেব আমরা এটাই বুঝি।আমাদের মত গরিব মানুষের কোন দিবস নেই।আমাদের জীবন সাজানো কাজের মধ্য বিলাসিতা নয়।কারণ আমাদের এই কাজের মধ্যে সুখ।আর কাজ না থাকলেই দুঃখ।
স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা জানান, যারা দিনমজুর মাঠে খাটে তারা আসলেই দিবসটা সম্পর্কে কেউ অবগত নয়।কিছু কিছু শ্রমিক দিবসটা সম্পর্কে জানে।তারপরও তারা কাজে যাই।কারণ কাজ করলে তাদের মুখে ভাত উঠবে।পরিবার নিয়ে একটু সুখের জন্য তারা যে পরিশ্রম করে তা অকল্পনীয়।তাদের কাছে দিবস বলতে কিছুই থাকে না।গরীবের কোন দিবস নেই, আর দিবস দিয়ে সংসার চলে না।কাজ করতে আসা নারী দিনমজুর খোদিজা খাতুন বলেন, আমাদের আবার কিসের দিবস।আমরা এতটুকু জানি প্রতিদিন কাজ করলে মুখে ভাত উঠবে।একদিন না খাটলে যখন মুখে ভাত উঠবে না।তাই গরিব মানুষের দিবস দিয়ে পেট চলে না।ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া,ঔষুধ,সংসার খরচ এসব চিন্তা মাথায় থাকলে বসে থাকার সময় থাকে না।
কাজ করতে আসা নারী দিনমজুর রিজিয়া খাতুন বলেন, প্রতিদিন কাজে আসলে ৫০০ টাকা আয় হয়।কিন্তু দিনশেষে কোন টাকা জমা করতে পারি না।সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে,বাজার করতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়।বলতে গেলে আমাদের দিন আনা দিন খাওয়া।আমরা দিবস টিবস ওতো বুঝিনা বাপ কাজ করলে পেটে ভাত যাবে।
কাজ করতে আসা মোঃ কলম আলী বলেন,মে দিবস তো বুঝি না।এই দিবসে কি হয়েছিল তাও জানিনা।আমরা কাজ করি বিভিন্ন জায়গায়।রোদ,গরম আর বৃষ্টি হোক আমাদের প্রতিদিনই কাজ করতে হয়।
তিনি আরো বলেন,আমাদের মতো গরিব মানুষদের আবার দিবস কিসের,না খাটলে যখন কেউ খেতে দেবে না।সবাই কাজে এসেছে তাই আমিও এসেছি।আমরা ছুটি সম্পর্কেও জানি না।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, ‘শ্রমিকরা এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন।তারা তাদের অধিকার আদায়ে সব সময় তৎপর।তারপরও মালিক পক্ষকে উদাত্ত আহবান জোরপূর্বক যাতে কোন শ্রমিকদের দিয়ে কোন কাজ করিয়ে না নেয়।




























