
স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের তীব্র সংকট। মাঠের ঘাস ও সংরক্ষিত খড় পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও গবাদিপশুপালকরা।
তাহিরপুর উপজেলা সদরের এক কৃষক জমিতে ফেলে রাখা ভেজা খড় কুড়িয়ে তুলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,মানুষ বাঁচানো যেমন তেমন, কিন্তু গরু বাঁচানোই এখন বড় দায়। আমাদের ভাটি অঞ্চলের মানুষের বড় সমস্যাই গরুর খাদ্য। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আগের সংরক্ষিত গোখাদ্য সব নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে জয়পুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, তাঁর চারটি গরু রয়েছে, কিন্তু এখনো এক মুঠো খড়ও শুকাতে পারেননি। তিনি বলেন,বৃষ্টির মধ্যে কোমর সমান পানি থেকে কোনভাবে ধান কেটে স্তুপ করে রেখেছি। টানা বৃষ্টির কারণে মাড়াই করা সম্ভব হয়নি। এই স্তুপের মধ্যেই খড় নষ্ট হয়ে গেছে। কিভাবে যে গরু বাঁচাবো এ নিয়ে এখন বড় চিন্তায় আছি।” তিনি আরও জানান, একই অবস্থা গ্রামের প্রায় সব কৃষকের।
অন্যদিকে জয়পুর নতুনহাটির কৃষক রাসেল মিয়া বলেন,বৃষ্টির পানিতে আমার সব খড় নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কুড়িয়ে তুলে কিছু খড় সংগ্রহ করেছি, কিন্তু এভাবে গরু পালন করা সম্ভব নয়।
এমন দুর্দশার চিত্রে নারীরাও পিছিয়ে নেই। অনেক পরিবারের মতো এক নারীকে পানিতে ভেজা জমি থেকে খড় কুড়িয়ে নিতে দেখা গেছে, যা সংকটের গভীরতাকেই তুলে ধরে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, হাওরাঞ্চলে কৃষির পাশাপাশি গবাদিপশুই জীবিকার অন্যতম প্রধান ভরসা। কিন্তু গোখাদ্যের এই সংকট অব্যাহত থাকলে শুধু পশুপালনই নয়, পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে দ্রুত গোখাদ্য সহায়তা, বিকল্প খাদ্য সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা—সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে গবাদিপশু রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং কৃষকদের জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।




























