
আতিক ফারুকী, নিজস্ব প্রতিবেদক:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার জোর খলার গোদারাঘাটে বহুদিনের যাত্রীভোগান্তি লাঘবে মানবিক পদক্ষেপ নিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে ঘাট উন্মুক্ত করে বিনামূল্যে যাত্রী পারাপারের জন্য নৌকা চালু করেছেন। এতে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে পারাপারে বাধ্য হওয়া মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ যাত্রীদের মুখে ফিরেছে স্বস্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যনগর-কলমাকান্দা সড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগস্থল এই জোর খলার গোদারাঘাট। কয়েক বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদ এ ঘাটটি ইজারা দিয়ে আসছিল। মৌসুমি ইজারাদাররা মোটরসাইকেল পারাপারে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করত। প্রতিদিন শত শত যাত্রী, ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবী মানুষকে এই অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হতো।
যাত্রীদের এমন দুর্ভোগ দেখে নিজ খরচে পারাপারের ব্যবস্থা করেন ছাত্রদল নেতা মিনু। তিনি বলেন,
“নামে মাত্র রাজস্ব নিয়ে ঘাট ইজারা দেওয়া হতো, কিন্তু ভোগান্তি ভুগতে হতো সাধারণ মানুষকে। যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই আমার পরিবারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ। পাশাপাশি নৌকা ওঠানামা সহজ করতে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজও চলছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।”
ঘাট ব্যবহারকারী মোটরসাইকেল চালক হারুন মিয়া জানান,“আগে পারাপারে ৩০ টাকা দিতে হতো, এখন বিনা খরচে যেতে পারছি। মিনুর এই কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।”
গলহা গ্রামের ডালিয়া আক্তার বলেন,
“আগে যাওয়া-আসায় মোট ৬০ টাকা খরচ হতো। এখন আর সেই চিন্তা নেই। অনেক বড় সুবিধা হয়েছে।”
শিক্ষক অনুকূল দেবনাথ জানান,
“অনেক শিক্ষার্থী ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারত না। এখন তারা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করছে। আমরা কৃতজ্ঞ।”
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন,
“জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নেওয়া এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে ঘাট ও সেতু সংক্রান্ত কাজগুলো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া প্রয়োজন। প্রশাসন সবসময় জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।”





























