
আব্দুল গফুর, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি :
শরতের শুভ্রতা মনে করিয়ে দেয় বিপদনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। দুদিন বাদে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজা উপলক্ষে বাড়িতে বাড়িতে নাড়ু, মোয়া ও মুড়কি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতনী গৃহবধূরা। নিজেদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এছাড়া রঙ তুলিড় নিপুণ আঁচড়ে দেবী দুর্গাকে জীবন্ত করে তুলছেন শিল্পীরা। নানা রঙে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজছে মন্ডপগুলো। মন্ডপে মন্ডপে এখন চলছে উৎসবের শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি।
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, এবছর নন্দীগ্রাম উপজেলায় ৪৭টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) মহা ষষ্ঠীপূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দেবীর বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে এ উৎসব শেষ হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নন্দীগ্রাম উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সরকার বলেন, এবার নন্দীগ্রামে ৪৭টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুজার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
নন্দীগ্রাম কলেজ পাড়ার গৃহবধূ রুম্পা রানী দাস বলেন, দুর্গাপূজা আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রতিটি পরিবারে বিভিন্ন ধরনের নাড়ু, মোয়া ও মুড়কি তৈরি করা হয়। আমাদের সমাজে এটি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। আমি প্রতিবেশীদের নিয়ে নাড়ু, মোয়া ও মুড়কি তৈরির কাজ শেষ করলাম। আমি তিলের নাড়ু, দুুই ধরনের নারিকেলের নাড়ু, গঙ্গাজলী নাড়ু, মুড়ির মোয়া, চিড়ার মোয়া, চানাচুরের মোয়া, দুধের নাড়ু ও মুড়কি তৈরি করেছি।
প্রতিমা তৈরির কারিগর মনোরঞ্জন মালাকার বলেন, আমি এবছর ৬টি প্রতিমা তৈরি করছি। এখন রঙের কাজ চলছে। প্রতিমা তৈরিতে যে জিনিসপত্র লাগে তার দাম বেশি। এজন্য লাভ খুব বেশি হয় না। ২০-৩০ হাজার টাকা প্রতিটি প্রতিমার মজুরি নিচ্ছি।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফাইম উদ্দিন বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ডপের গুরুত্ব বুঝে পুরুষ ও মহিলা পুলিশ সদস্যরা প্রতিটি মণ্ডপে থাকবে। এছাড়া তিন থেকে আটজন করে আনসার সদস্য প্রতিটি মণ্ডপে মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে পুলিশ সদস্যরা টহলে থাকবে।





























