
গাজী হাবিব, সাতক্ষীরা:
শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ, ফ্যাসিস্ট সাতক্ষীরার ডিসি মোস্তাক আহমেদ অবশেষে ঢাকায় বদলী করা হয়েছে। তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অপরদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত শনিবার দিবাগত রাতের এক প্রজ্ঞাপনে মিস আফরোজা আখতারকে সাতক্ষীরার ডিসি হিসেবে যোগদানের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি ২৮ তম বিসিএস প্রশাসনের কর্মকর্তা। বর্তমানে পাবনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
জানা যায়, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মোস্তাক আহমেদকে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে তিনি পরিচালক তোষাখানা ইউনিট, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
মোস্তাক আহমেদ সাতক্ষীরায় যোগদানের পরপরই ফ্যাসিস্টের চরিত্র উন্মোচন করেন। জাহির করতে থাকেন ক্ষমতার অপব্যবহার। খাসজমি উদ্ধারের নামে জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর, আলিপুর ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রউফের সাথে জনসম্মুখে অসদাচরণ, জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ রাজনীতিবিদদের ক্রিমিনাল ও সাংবাদিকদের মুনাফেক বলে বেশ সমালোচিত হয়েছেন। শুধু এমনই নয়, সম্প্রতি জুম্মার নামাজে শহরের কামান নগর মসজিদের ইমামের সাথে বেয়াদবি করে মুসল্লিদের জনরোষে পড়েন।
সাতক্ষীরা পৌরসভার একাধিকবার নির্বাচিত মেয়র ও বিএনপি নেতা তাসকিন আহমেদ চিশতির সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করাসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা -কর্মচারী ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সাথে তার রুক্ষ ও অসম্মানজনক আচরণে সাতক্ষীরা বাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।
এদিকে, শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সাতক্ষীরার ফ্যাসিস্টদের সাথে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠতা। আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের নিয়ে নিয়মিত গোপন ও প্রকাশ্য মিটিং করা, ডিসি বাংলোতে নিয়মিত নাচ- গানের আসর বসানোসহ ফ্যাসিস্টদের নিয়ে খাওয়া -দাওয়া ও মাস্তির ব্যবস্থা রাখা হতো বাংলোতে। স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে ফ্যাসিস্টদের সুবিধা দেওয়াই তার উদ্দেশ্য।
এছাড়া, দুর্নীতি ছিলো তার আপাদ মস্তকে। ডিসি আয়কৃত খাস জমি উদ্ধারের ভয় দেখিয়ে শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের এল আর ফান্ডের নামে জেলার ইটভাটা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক কোটি টাকা তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ইতোমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বাংলোর দেয়ালে জুলাই আন্দোলনের আঁকা গ্রাফিতি মুছে ফেলে তিনি স্বৈরাচারী আচরণের মুখোশ উন্মোচন করেছেন।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, সাতক্ষীরা পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা তাসকিন আহমেদ চিশতী এসব বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে ডিসি মোস্তাক আহমেদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
তবে,সুচতুর ফ্যাসিস্ট ডিসি মোস্তাক আহমেদ দিনের পর দিন তার এই অনৈতিক কার্যকলাপ চেপে রাখতে জেলার শীর্ষ কয়েক জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা রাখতেন। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হয়েও তার আচরণে ছিলো কখনো জামায়াত, কখনো বিএনপি। যে কারণে অনেক রাজনৈতিক নেতা সবকিছু জানার পরও চুপ থাকেন।
তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায়, সাতক্ষীরার ডিসি মোস্তাক আহমেদ ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প পুরস্কার পেয়েছিলেন ।
তিনি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করে রাখেন। এছাড়া, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তার আওয়ামী প্রীতির অসংখ্য ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে রেখেছিলেন। যা এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।




























