
আ মোঃ সোহরাব উদ্দিন মন্ডল
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি বাজার। এতে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে ব্যাপকভাবে বিঘ্ন ঘটছে। অভিযোগ আছে, এসব বাজারের প্রতিটি দোকান থেকে দিনে পঞ্চাশ থেকে তিনশ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
কাশিমপুরের জিরানী এলাকায় রাস্তার পাশে সরকারি ইজারাকৃত বাজারের সীমানার বাইরে মহাসড়কের পাশে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার রাস্তা জুরে গড়ে উঠেছে রমরমা পণ্যের পসরা সাজানো বাজার।এসব বাজারের কারণে পথচারীদের হাটার জায়গা নেই বললেই চলে। রাস্তার দুই পাশ জুড়েই দেখা যায় বিভিন্ন পণ্যের পসরা আর শোনা যায় হকারদের হাকডাক।বিশেষ করে সড়কের পশ্চিম পাশে বিকেএসপি,সাথী গার্মেন্টস এলাকায় বিকেল থেকে সন্ধায় আসলে এখানে সড়ক না বাজার তা বুঝার উপায় নেই।
এছাড়া কাশিমপুর-শ্রীপুর সড়কের ডিবিএল ১নং গেইট থেকে শুরু করে কাজী মার্কেট পর্যন্ত প্রায় অর্ধ কিলোমিটার সড়কে,সুলতান মার্কেট,হাজী মার্কেট,কাশিমপুর-জিরানী সড়কের আলীম নিটওয়্যার ফ্যাক্টরির সামনে, মোল্লা মার্কেট,হাতীমারা স্কুল গেইট ও ঈদগাহ মাঠের পাশের সড়ক,পানিশাইল,রেডিয়্যাল গার্মেন্টসের দুই পাশে,কাজীমার্কেট থেকে মোজারমেইল সড়কের মোজারমেইল স্ট্যান্ড,বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের সামনে থেকে নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের মুখ পর্যন্ত ও জিরানী বাজার এলাকা সহ আরও বহু স্থানে এসকল অস্থায়ী ভাসমান বাজার বসিয়ে করা হচ্ছে সড়কে চলাচল করা যানবাহনের স্বাভাবিক গতিরোধ। সড়কের উপর এসব দোকানপাটের জন্য যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত, ঘটছে দূর্ঘটনা। হাজারো শিল্প কারখানার শ্রমিকেরা প্রতিনিয়ত পরছেন প্রচন্ড বিরম্বনায়।প্রতিদিনই স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষদের পোহাতে হচ্ছে প্রচন্ড দূর্ভোগ।
সাধারণ পথচারীরা বলছেন,সড়ক-ফুটপাতে বাজার বসলে হাঁটার জায়গা থাকে না। মুল সড়ক দিয়ে চলাফেরা করতে হয়।সেই মূল সড়কেরও প্রায় অর্ধেক জুড়ে কাচা সবজি, ফলমূল ও জামাকাপড় সহ বিভিন্ন দোকান বসায় আমাদেরকে যেতে হচ্ছে সড়কের অনেকটা মাঝ দিয়ে,আর এতেই প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
কিন্তু এই সড়কগুলোর উপর বাজার বসাতে জেলা বা উপজেলা প্রশাসন অথবা সিটি কর্পোরেশনও কোনরূপ ইজারা দেয়নি। এরপরও কিভাবে আর কাদের যোগসাজশে সড়কগুলোতে বসেছে শত শত দোকান-এমন প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে অবাক করা নানা তথ্য।এসব বাজারে দোকান বসাতে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা ও নেতার আত্মীয়দের এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে সিকিউরিটি বিল,বিদ্যুৎ বিল,ময়লা অপসারণ বিলসহ নানা নামে নেয়া হচ্ছে চাঁদা।দোকানভেদে ভাড়া বাবদ দিনে আদায় করা হয় সর্বনিম্ন ১০০ থেকে ৩০০ টাকা।
কাশিমপুর-শ্রীপুর, কাশিমপুর-জিরানী,জিরানী বাজার-সাথী গার্মেন্টস এলাকা,মোজারমেইল সহ সবগুলা এলাকা মিলিয়ে কমপক্ষে প্রায় ৫০০ টিরও অধিক দোকান রয়েছে।এসব দোকান থেকে প্রতিদিন গড়পড়তা ৫০ টাকা করে নেয়া হলেও বছরে টাকার অংক দাঁড়ায় প্রায় কোটি টাকা।আর এর পুরোটাই যাচ্ছে এসব অবৈধ বাজার বসানো ব্যক্তিদের পকেটে।সরকার বা সিটি কর্পোরেশন পাচ্ছে না কোন অর্থ।
দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সড়কে দোকান দেয়ায় বেচা-কেনা ঠিকমত না হলেও চাঁদার কোন মাফ নাই।আর এতে অনেকসময়ই পোষায় না তাদের।এরপরও পেটের দায়ে আর বেশি টাকা দিয়ে বাজারে দোকান নেয়ার অবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই চাঁদা দিয়েই রাস্তার উপর অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে চলতে হচ্ছে।
অভিযোগ আছে, সড়কের দোকান থেকে ভাড়া তুলছে এলাকার প্রভাবশালী একটি চক্র। রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না বলে মন্তব্য এলাকার বাসিন্দাদের।এসব অবৈধ বাজারের দোকানীদের থেকে জানা যায়,জিরানী র্যাডিয়াল গার্মেন্টসের আশপাশের দোকান থেকে মহানগরের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এনায়েত হোসেন মোল্লা (সাবেক মেম্বার) এর ছোট ভাই শাহাদাত ও তার সহযোগী আশিক,মামুন,নাহিদ ও সাহেদ, জিরানী বাজার থেকে সাথী গার্মেন্টস পর্যন্ত সোহেল রানা, আব্দুল আলীম সহ অন্যান্যরা এসব চাঁদা আদায় করে।
কাশিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সড়ক যাঁরা দখল করেন তাদের রাজনৈতিক একটা পরিচয় থাকে। সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরেই তাঁরা এই সড়ক দখলের কাজে জড়িত থাকে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরা সব দেখেও না দেখার ভান করেন। অনেক সময় তাঁরা নিজেরাও জড়িত থাকেন।
পর্ব-১





























