
জি এম ওসমানী মেডিকেল কলেজ সিলেট,
খোলা চিটি
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।
ওসমানী হাসপাতাল — সিলেট বিভাগের মানুষের জন্য আশার আলো।ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, এটি প্রতিদিন হাজারো রোগীর নির্ভরতার জায়গা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায়, গরিব ও সাধারণ মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসে—কেউ সুস্থ হয়ে ফিরে যায়, কেউ আবার প্রিয়জনকে হারিয়ে চোখের জলে বিদায় নেয়।
এই হাসপাতালে অনেক মায়ের কোল জোড়া লাগে, আবার অনেক পরিবার চিরতরে হারায় তাদের সন্তানকে। আমার নিজের জীবনের একটি অধ্যায়ও জড়িয়ে গেছে এই হাসপাতালের দেয়ালে—আছে সুখের স্মৃতি, আছে ব্যথার কাহিনী। সরকারি হাসপাতাল
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতাল। জরুরী বিভাগে রুগী নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে টিকেট নিতে হবে। টিকেট,রোগী ভর্তি,টিকেট নেওয়ার পর রোগীকে হুইল চেয়ারে করে ওয়ার্ডে নিয়ে গেলে ১০০টাকা, আর রোগীর অবস্থা খারাপ হলে ট্রলি দিয়ে নিতে ২০০টাকা,ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার পর রোগীর সাথে ১জনের বেশি প্রবেশ করলে জন প্রতি ২০টাকা,৫০০,১০০০,১৫০০,২৫০০টাকা হলে বেড আছে। না হয় মাটিতে। রোগী ভর্তি শেষ। এবার ডাক্তারের পালা। ডাক্তার আসবে রোগী দেখবে।তারপর শুরু হবে পরিক্ষা। প্রথমে কমপক্ষে ৪টি পরিক্ষা সাথে ১বস্তা স্যালাইন ও কিছু ঔষধ। পরিক্ষার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত স্যালাইন আর ঔষধ চলবে।রিপোর্ট আসার পর আরেক ডাক্তার আসবে সে দেখে আবার অন্য পরিক্ষা দিবে।এভাবে প্রতিদিন ডাক্তার পরিবর্তন হবে আর একটার পর একটা পরিক্ষা দিবে।পরিক্ষা করাতে হুইলচেয়ারে নিয়ে গেলে ১০০টাকা আর ট্রলিতে নেওয়া লাগলে ২০০টাকা ওয়ার্ড বয়কে দিতে হবে। আর প্রতিদিন নতুন নতুন ঔষধ যোগ হবে।প্রতিদিন রোগীর সাথে দেখা করতে আসলে দারোয়ানকে খুশি করতে হবে।সব পরিক্ষা শেষ। এবার অপারেশন এর পালা।অপারেশন করতে ৬০০০ থেকে ৭০০০ টাকার ঔষধ কিনে ডাক্তারের হাতে দিতে হবে। যাহা অফেরতযোগ্য।অপারেশনে যদি রোগী মারা যায়। টাকা এবং মানুষ সব শেষ। হাতে ভিক্ষার বাটি।আর অপারেশন যদি সাক্সেস হয়।অপারেশন থিয়েটারের বয়কে খুশি করতে হবে।দারোয়ানকে খুশি করতে হবে। এবং প্রতিদিন ড্রেসিং করার জন্য ও খাওয়ার ঔষধ কিনতে হবে, সিজার রোগীর পরিস্কার যতবার করবে ১০০ টাকা দিতে হবে না হয় পরিস্কার করে দিবো না। রোগী সুস্থ্য। এবার রিলিস দেওয়ার পালা।নার্সকে খুশি করতে হবে। দারোয়ানকে খুশি করতে হবে। ওয়ার্ড বয়কে খুশি করতে হবে। সবাইকে খুশি করে ০ হাতে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তারপর বাহিরে এসে দেখবেন জাতির সেই ব্যানার ঝুলে আছে,আমি ও আমরা সবাই সাধু।প্রশাসনের কাছে জোর দাবী এদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হোক। তবে ডাক্তারগণের আচরণ অনেক ভালো চিকিৎসা সেবাও অনেক ভালো কিন্তু নিম্ন স্তরের কর্মীদের কাছে রোগী ও রোগীর স্বজনরা অসহায় তিন দিন অবস্থান করে যা অনুভব করলাম ধৈর্য হারা হয়ে নাম না জানা একজন ওয়াড ভয়কে প্রশ্ন করলাম আপনারা যে রোগীর কাছ থেকে টাকা নেন সে টা কি রোগীবা রোগীর স্বজনরা দিতে বাধ্য উওরে বলেন না বাধ্য নয়। তখন আশপাশের রোগীরা উনাকে বলেন আপনেই তো সবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিলেন। তখন আমার সাথে সুন্দর সুন্দর কথা বলে চলে যান। চাই আরও মানসম্পন্ন চিকিৎসা, আরও দক্ষতা, আরও মানবিকতা।সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আহ্বান, ওসমানী হাসপাতালের সেবার মান যেন আরও উন্নত হয়, রোগীরা যেন হয় সম্মানিত, চিকিৎসকরা পান উপযুক্ত পরিবেশ।কারণ, এখানে জীবন বাঁচে—স্বপ্ন বাঁচে।
লেখক - উজ্জীবক সুজন তালুকদার।
স্বেচ্ছাসেবক কর্মী দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ।
রোগীর একজন স্বজন
ছাতক উপজেলার বাসিন্দা
মোবাইল নং 01719192289
তারিখ ১১,১১,২০২৫।
লেখাটি পড়ে থাকলে একটি শেয়ার
দিন প্লিজ।





























