
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
রমজান মাসজুড়ে বিদ্যালয়গুলোতে ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনের প্রথম শনিবার শ্রেণিকার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিছু কিছু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ভালো থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয় গুলোতে উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক দিনের চেয়ে কম।
শনিবার (৪ এপ্রিল) উপজেলা সদরের মুরাদনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষকরা স্বাচ্ছন্দে ক্লাস নিচ্ছেন। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ভালো থাকলেও নিচের শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক দিনের চেয়ে কিছুটা কম। এছাড়াও উপজেলার করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিছু কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ভালো থাকলেও কিছু কিছু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে কম।
কয়েকজন প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারি শিক্ষকের সাথে কথা বেেল জানা যায়, শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্লাস নিয়েছেন। সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে প্রথম ক্লাস হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও আগামী ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরো বাড়বে বলে আশা করছেন। তবে এ ব্যাপারে অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করেন শিক্ষকরা।
মুরাদনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে তাদের অনুভূতি জানতে চাইলে তারা জানায়, অতিরিক্ত ক্লাস করতে পেরে তাদের ভালো লেগেছে। পরবর্তী শনিবারগুলোতেও তারা ক্লাশ করতে আগ্রহী।
শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা হলে তারা জানান, শিখন ঘাটতি পূরণে সরকারের এই উদ্যোগটি ভালো হলেও বন্ধের দিনে অনেক বাচ্চারা স্কুলে আসতে চায় না। তাদেরকে বুঝিয়ে সুজিয়ে স্কুলে নিয়ে আসতে হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ভালো ছিল।
সম্প্রতি অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, রমজান মাসজুড়ে বিদ্যালয়গুলোতে ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে ছুটির পরবর্তী ১০টি শনিবার শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। সে অনুযায়ী আরও টানা ৯টি শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর শ্রেণিকার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।




























