
মো.মুরাদ মৃধা, রাণীনগরসঠিক পরামর্শ আর কঠোর পরিশ্রম যে মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার শহীদুল ইসলাম। পৈত্রিক ভিটার পরিত্যক্ত জমিতে পানের ‘বরজ’ তৈরি করে এখন তিনি অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখছেন। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার বেকার যুবকদের মাঝে নতুন করে স্বপ্ন জাগছে।রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের টুং শিয়ালা গ্রামের মৃত সাদেক আলী আকন্দের ছেলে শহীদুল ইসলাম (৪৫)। তার ছেলের শ্বশুরবাড়ি রাজশাহীর বানিশ্বর এলাকায়, যা পান চাষের জন্য দেশজুড়ে বিখ্যাত। সেখান থেকেই মূলত তিনি পান চাষে উদ্বুদ্ধ হন। ছেলের শ্বশুরের দেওয়া উৎসাহ ও কারিগরি পরামর্শে নিজের মাত্র ৭ শতাংশ পরিত্যক্ত উঁচু ভিটায় পানের বরজ তৈরি করেন তিনি। শুরুতে বরজ তৈরিতে তার ব্যয় হয় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বর্তমানে শহীদুলের বরজে পানের ব্যাপক ফলন হচ্ছে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর বরজ থেকে ৭ থেকে ৮ পোয়া পান সংগ্রহ করা হয়। কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন প্রতিবার গড়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকার পান বিক্রি হচ্ছে। বরজের পান অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর ব্যাপক কদর ও চাহিদা রয়েছে। আমার এই পানের বরজ তৈরি করার পর প্রায় এক বছর পার হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো কৃষি কর্মকর্তা আসেনি বা কোনো দিক নির্দেশনাও দেয়নি। সরকারি সহায়তা ও সঠিক কারিগরি পরামর্শ পেলে এই বরজকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব।এদিকে শহীদুলের এই অভাবনীয় সাফল্য স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও আক্ষেপ রয়েছে কৃষি বিভাগের তদারকি নিয়ে। এলাকার স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেলে এই অঞ্চলে পান চাষকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া সম্ভব, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন বলেন রাণীনগর উপজেলায় পানের বরজ আছে কি না, তা আমার জানা ছিল না। এমনকি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। আমি নিজে দ্রুত বরজটি পরিদর্শনে যাব এবং ওই কৃষককে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করব।" তিনি আরও বলেন উপজেলায় পান গবেষণা কেন্দ্র না থাকায় কৃষকরা সাধারণত সরাসরি পরামর্শ পান না। তবে শহীদুলের মতো পরিশ্রমী উদ্যোগ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আমি মনে করছি।স্থানীয়রা মনে করেন শহীদুল ইসলামের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, ইচ্ছা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে অপ্রচলিত চাষাবাদেও ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। এখন যথাযথ সরকারি সহযোগিতাই পারে এই উদ্যোগকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে।




























