
সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে ওসির বাঁধা।
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
আমতলী পৌর শহরের মহিলা কলেজ সড়কের একটি বাসায় শারমিন আক্তার রুবা (২৭) নামের এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ওই নারীকে রাহাত ফকির উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেছেন। তার মৃত্যু রহস্য নিয়ে জনমনে নানা কৌতুহলের জন্ম নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ওই নারীর মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহে ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন সাংবাদিকদের বাঁধা দিয়েছেন। এতে রহস্য আরো ঘনিভূত হয়েছে। পুলিশের উধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের মহিলা কলেজ সড়কে গত এক বছর আগে শারমিন আক্তার রুবা ও তার মা জাহানারা বেগম বাসা ভাড়া নেয়। ওই বাসায় তিনি ও তার মা বসবাস করতেন। বাসা ভাড়া নেয়ার কিছুদিন পরে ওই বাসায় আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে একাধিক ডাকাতি মামলার আসামী রাহাত ফকির যাতায়াত করতো এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। কিন্তু তাদের মধ্যে কি সম্পর্ক তা কেউ অবগত নন। কখনো তারা স্বামী স্ত্রী হিসেবে চলাফেরা করতো আবার কখনো প্রেমিক-প্রেমিকা পরিচয় দিতো কিন্তু স্থানীয়রা ভয়ে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইতো না। বুধবার সকালে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয় এবং স্থানীয়রা ওই বাসা থেকে কান্নার শব্দ পান। এরপরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাহাত ফকির একটি এম্বুলেন্স এনে ওই বাসা থেকে শারমিন আক্তার রুবাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ হুমায়ুন আহমেদ সুমন তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেছেন। রাহাত ফকিরের ওই হাসপাতালের দেয়া তথ্য মতে শারমিন আক্তার রুবা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে আমতলী থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন হাসপাতালে যান। পরে তিনি নিহতের মরদেহ ও তার মা জাহানারা বেগমকে হাসপাতালের একটি কক্ষে নিয়ে যায় এবং প্রভাবশালী কিছু বিএনপি নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে। ওই সময় সাংবাদিকরা নিহতের রহস্যজনক মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন ওই কক্ষে সাংবাদিক প্রবেশে বাঁধা দেন। পরে তিনি এম্বুলেন্সে করে নিহতের মরদেহ ও তার মাকে থানায় নিয়ে আসেন। থানায় সাংবাদিকরা নিহতের মা জাহানারা বেগমের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে এবং তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তিনি (ওসি) তাতেও বাঁধা দেন। রাতভর নিহতের মাকে থানায় রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার আগে রুবা তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করে গেছেন আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার জীবন যাহারা নষ্ট করেছে আল্লাহ যেন তাদের ধ্বংস করে দেন। তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাহাত ফকিরের সঙ্গে একাধিক ছবি রয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে শারমিনের মৃত্যুর পরে ওই ছবি ও মন্তব্য ডিলেট করা দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, গত এক বছর ধরে রাহাত ফকির শারমিন আক্তার রুবার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো চলাফেরা করছে। কিন্তু তাদের সম্পর্কের বিষয়ে ভয়ে কেউ জানতে সাহস পায়নি। বুধবার সকালে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয় এবং শারমিনকে কান্না করতে দেখা গেছে। ঘটনার পরপরই রাহাত ফকির একটি এম্বুলেন্স এনে শারমিনকে নিয়ে গেছেন। পরে শুনতে পাচ্ছি শারমিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আসলে কি হয়েছে তা কেউ বলতে পারে না।
এ বিষয়ে রাহাত ফকিরের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটনে নিহতের মরদেহ ময়না তদন্ত করা হয়েছে।
বরগুনা পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই খুদা বলেন, নিহতের মরদেহ ময়না তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার ঘটনা ঘটে থাকলে প্রভাবশালী যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। আমতলী থানার ওসি তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাঁধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।






























