
জাহিদ হাসান মুক্তার:বিশ্ববাজারে যুদ্ধ ও অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও সরকার এখনো দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু পাম্প মালিক ও ব্যবসায়ী তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। আর এই টানাপোড়েনের মাঝখানে পড়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাস্তব চিত্রটা আরও কষ্টের। অনেকেই আধা লিটার তেল খরচ করে ১ লিটার তেল সংগ্রহ করতে যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু টাকার হিসাব নয়, সময় ও শ্রম—সব মিলিয়ে তেলের প্রকৃত খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ধরা যাক হিসাবটা এমন— ১ লিটার তেলের মূল্য: ১২০ টাকা, যাতায়াতে খরচ হওয়া আধা লিটার তেল: ৬০ টাকা, আধা দিন কাজ বন্ধ থাকার ক্ষতি (একজন দিনমজুরের): ৩০০ টাকা, চা, পান বা অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ: ২০ টাকা মোট খরচ দাঁড়ায় (১২০ + ৬০ + ৩০০ + ২০) = ৫০০ টাকা। অর্থাৎ কাগজে কলমে তেলের দাম ১২০ টাকা হলেও বাস্তবে একজন ভুক্তভোগীকে ১ লিটার তেলের জন্য প্রায় ৫০০ টাকার সমান ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ৩৮০ টাকা হয়তো তেল ব্যবসায়ীর পকেটে যাচ্ছে না, কিন্তু সাধারণ মানুষের পকেট থেকে ঠিকই বের হয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো—এই অদৃশ্য ক্ষতির খবর কি কেউ রাখছে? অনেকের মতে, কৃত্রিম সংকট ও ভোগান্তির চেয়ে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণই ভালো ছিল। দাম কিছুটা বাড়লেও যদি সহজে তেল পাওয়া যেত, তাহলে অন্তত সময় ও শ্রমের অপচয় হতো না। তেল ব্যবসায়ীরা বৈধভাবে লাভবান হতো, আর সাধারণ মানুষও “দশের যে গতি, আমারও সেই গতি”—এই মানসিকতা নিয়ে পরিস্থিতি মেনে নিতে পারতো। এখন প্রয়োজন বাজার তদারকি জোরদার করা, মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। কারণ জ্বালানি শুধু একটি পণ্য নয়, এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার সাথে সরাসরি জড়িত।



























