
স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শুক্রবার বিকেলের আকাশ যেন হঠাৎ কান্নায় ভিজে উঠল। বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবসের জনসভা যখন ভালোবাসা ও আবেগে গর্জে উঠছিল,ঠিক সেই সময় নিভে গেল তৃণমূলের এক নিবেদিত প্রাণ কর্মীর জীবনপ্রদীপ।
বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা,তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুলের আবেগঘন বক্তব্য শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মধ্যতাহিরপুর গ্রামের শুলতু মিয়া (৫৫)।একই সঙ্গে হৃদরোগে আক্রান্ত হন শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বিএনপি কর্মী মোদাচ্ছির আলম,যিনি বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,যখন কামরুল ভাই কণ্ঠ কাঁপিয়ে বলছিলেন,আমার টাকা নেই,কিন্তু আমার কর্মীরা আছে। তারা আমার শক্তি,তারা আমার জীবন।ঠিক সেই মুহূর্তে শুলতু মিয়া বুকে হাত রেখে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই হাজারো মানুষের গর্জনে মুখর জনসভা নিস্তব্ধ হয়ে যায়। কান্নাভেজা হাতে কর্মীরা তাকে হাসপাতালে নেন, কিন্তু চিকিৎসক জানান, তিনি আর নেই।
ছেলে ও ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম নবাব কাঁদতে কাঁদতে বলেন,বাবা কামরুল সাহেবের ভক্ত ছিলেন।অসুস্থ শরীরেও আজ এসেছিলেন শুধু তাকে একনজর দেখার জন্য। কিন্তু সেটাই হয়ে গেল শেষ দেখা।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে থাকা মোদাচ্ছির আলম বলেন,কামরুল ভাই তৃণমূলের প্রাণ।তার কণ্ঠ শুনে বুকটা পুড়ে যাচ্ছিল,কষ্টটা সহ্য করতে পারিনি।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিজেও ভেঙে পড়েন কামরুজ্জামান কামরুল।চোখে পানি আর কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন,আমার কাছে রাজনীতি মানে মানুষের ভালোবাসা। আজ সেই ভালোবাসাই এক কর্মীর জীবন নিয়ে গেল। আমি নিঃস্ব,কিন্তু কর্মীদের ভালোবাসায় আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ। প্রয়োজনে তাদের জন্য জীবন দেব।
বিএনপির সাম্প্রতিক মনোনয়ন তালিকায় সুনামগঞ্জ–১ আসনে কামরুলের পরিবর্তে মনোনয়ন পান আনিসুল হক,যিনি অতীতে উপজেলা নির্বাচনে তার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।এই ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীরা কান্না,ভালোবাসা ও প্রতিবাদে একাকার। কেউ গয়না বিক্রি করে বানায় মালা, কেউ চোখের পানিতে লেখে স্লোগান এই মনোনয়ন মানি না,কামরুল ছাড়া চিনিনা।
এক প্রবীণ বিএনপি নেতা কাঁপা কণ্ঠে বলেন,রাজনীতি শুধু পদ-পদবি নয়,এটা হৃদয়ের সম্পর্ক। আজ সেই সম্পর্কের সাক্ষী হলো এক মৃত্যু যা রাজনীতির ইতিহাসে লেখা রইল অশ্রু ও ভালোবাসার এক অমর অধ্যায়।




























