
গাজী হাবিব, সাতক্ষীরা: ওসমান হায়দার রনি নামের এক কিশোরকে অপহরণের পর কয়েক দফায় লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার আটশতবিঘা ব্রীজ এলাকা থেকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।অপহৃত ওসমান হায়দার রনি (১৮) সাতক্ষীরা শহরের কামালনগর এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে। সে বর্তমানে দেবহাটার চালতেতলায় থাকতো।আহতের পিতা আব্দুল হালিম জানান, তার ছেলে ওসমান হায়দার রণি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সন্ন্যাসীর চক থেকে বের হয়ে ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেলে গাজীরহাটে যাচ্ছিল। রাত সাড়ে ৭ টার দিকে সে আটশত বিঘা ব্রীজের কাছে পৌঁছালে বেসরকারী সংস্থা আইডিয়ালের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ নজরুল, আব্দুল আজিজ, শিমুলিয়ার সুরুজ কাজী, কাজী গোলাম ওয়ারেশ এর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য চালতেতলার কালু ডাকাতের ছেলে মোস্তাকিম, রামনাথপুরের আব্দুল আলীম, বাবুরাবাদের রহুল আমিনের ছেলে আলমগীর ও মহরমসহ কয়েকজন তাকে মটর সাইকেল থেকে নামিয়ে তাদের ব্যবহৃত মটর সাইকেলে তোলে। পরে তাকে চালতেতলা পাকা বাসার সামনে প্রথম দফায় হাত ও পা বেঁধে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে সুরুজ কাজীর বাসায় নিয়ে দ্বিতীয় দফায় নির্যাতন করা হয়। বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে জানতে পেরে তিনি বিষয়টি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মহোদয়কে অবহিত করেন।তিনি আরো জানান, একপর্যায়ে দেবাহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন জানতে পেরে বিভিন্ন স্থানে রনিকে খুঁজতে থাকেন। রনিকে দেহাটার সখীপুর হাসপাতালের সামনে রাত ১টার দিকে কে বা কারা ফেলে গেছে মর্মে তাকে অবহিত করে মর্মে তাকে জানান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সখীপুর হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তাকে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ আবু হাসান জানান, প্রথমে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে তাকে ভর্তি করা হয় রাত ১২টার পর। পরবতীতে তার পরিচয় জানা যায়। রনির শরীরের হাত, পা, উরু, পিঠসহ বিভিন্ন স্থানে ভারী জিনিস দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাঃ শাহীনুর রহমান জানান, রনির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে খুলনা ৫০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন জানান, পুলিশ সুপার মহোদয়ের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে রনিকে বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন স্থানে সন্ধান চালানো হয়। রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোবাইল ফোনে রনিকে গনপিটুনি দিয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ফেলে গেছে বলে তাকে অবহিত করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।





























