
মাসুদ রানা: পাবনা
একজন সফল নারী উদ্যোক্তা রিমা পারভীন। স্বামীর অনুপ্রেরণায় উদ্যাক্তা জীবন শুরু করলেও আজ স্বামী নাই তারপর ও সফল উদ্যোগতা হয়ে দুই সন্তান নিয়ে সংসার চালান। বলছি পাবনা শহরের মেয়ে নিত্য চাহিদা / এম আর টি এর স্বত্বাধিকারী রিমা পারভীনের কথা। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ব্যবস্হাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছে। মূলত হাজব্যান্ডের অনুপ্রেরণায় অনলাইন বিজনেস শুরু। রিমা ২০১৫ সালে নিবন্ধন কম্পিলিট করে স্কুল এন্ড কলেজের। কিন্তু চাকরি হলো না। তখন জেলা স্কুল ও গার্লস স্কুলের এডমিশনের বাচ্চাদের পড়ান,সেটাও করোনা আশায় সেটাও বন্ধ হয়ে যায়।
অত:পর অনলাইন ব্যবসা শুরু করে উই প্লাটফর্মের মাধ্যমে পাবনার ঘি, বিভিন্ন মসল্লা গুড়া, বিভিন্ন আচার, যবের ছাতু, মিক্সড ছাতু, লাল গম, কাসুন্দি, বাটার, সরিষার তেল বিভিন্ন হোমমেড পিঠা তৈরি করে সেল করতে লাগে। পাশাপাশি নিজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পাবনা মহিলা অধিদপ্তর থেকে “ফুট প্রসেসিং এর ট্রেনিং এর পাশাপাশি হস্তশিল্পের কাজটিও
মহিলা অধিদপ্তর থেকে সম্পন্ন করে।
অত: পর ছোট বড় বিভিন্ন নকশি কাঁথা আঁকানো, সেলাই করে কাজ শুরু করে এখানে ২০ জন কর্মী নিয়ে কাজ শুরু করে । এছাড়া থ্রী পিচ এর অপর হাতের কাজ, হ্যান্ড পেইন্ট ব্লক বাটিক কাজ করেও নিজের ব্যবসায় পাশাপাশি বিভিন্ন নারীদেরও কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা ও অনলাইনে কাজ শেখাতে সক্ষম হয়। এছাড়া লিচু ও আম নিয়ে কাজ করেও গ্রামের বেশ কিছু মহিলা ও পরিবার সাথে যুক্ত হোন। উই প্লাটফর্ম রিমাকে পাবনা জেলার কো-আর্ডিনেটর এর দায়িত্ব দেওয়ায় পাবনা মেয়েদের কাজ শেখানো, পথ দেখানো, পরামর্শ দিয়ে অনলাইনের সাথে ১৮০ জন মেয়েকে কাজ শেখাতে সম্মত হয়। ধন্যবাদ জানান উইমেন এন্ড ই- কমার্স এর প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তান নিশাকে।
ধন্যবাদ জানান, পাবনা মহিলা অধিদপ্তরের সকল মেডামকে, পাবনা বিসিকের ডিজিএম স্যার সহ সকল স্যারকে, যুব প্রশিক্ষণের স্যারদের।
রিমা আরো জানান, নিজে শোরুম দিবো এমন পরিকল্পনা করছিলাম, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে রেইজ প্রজেক্টে ট্রেইনার হিসেবে সুযোগ পেলাম ওসাকার মাধ্যমে। দিন ঘুরছিলো আমার কিন্তু হঠাৎ কালো ঝড় এলো আমার হাজব্যান্ড এর ডিসেম্বর মাসের ২০ তারিখে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়লেন ২৪ তারিখে আল্লাহর মেহমান হয়ে চলে গেলেন। আমি নির্বাক ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে কিভাবে সংসার চালাবো তাদের পড়াশোনা করাবো। কিন্তু সকলের অনুপ্রেরণায় আমি শক্ত হাতে নিজের সন্তান দুটোকে নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকলাম। কারণ আমি কাজ না করলে আমার ছেলেদেও মুখের আহার দিতে পারবো না। রাত দিন এই চিন্তা ছেলেদেও কালকে কি খেতে দিবো, তাদের পড়া কোনভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না । অনলাইন ব্যবসার সময় দিতে থাকলাম। ওসাকার রেইস প্রজেক্টের ট্রেইনারের চাকরি টা করতে থাকলাম। মহিলা অধিদপ্তর উপ-পরিচালক সহ সকল ম্যাডাম, বিসিকের স্যারদের সহযোগীতায় যুব উন্নয়ন, ডিসি স্যারদের, ও শহরের গনমান্য ব্যক্তিদের অনুপ্রেরণায় আমি আমার কাজগুলোকে চালিয়ে যেতে থাকলাম। আমি থেমে গেলে আমার মতো শত শত নারী হতাশ হয়ে পড়বে। তাই হতাশ না হয়ে নিজের উদ্যোক্তা জীবনে এগিয়ে নিয়ে চলছি।পাবনা জেলার মেয়েদের নিয়ে আমার উদ্যাক্তা জীবন আমি আরো এগিয়ে যেতে পারবো আপনাদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা পেলে।
বিঃদ্রঃ হাজব্যান্ড মারা যাওয়ার পর উদ্যোক্তা হয়ে রিমা সংসার খরচ, বাচ্চাদের খরচ , মায়ের খরচ চালিয়ে যাচ্ছে ।সবমিলে রিমা একজন সফল নারী উদ্যোক্তা।





























