
সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান হাসান, জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী শতবছর ধরে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চললেও টেক্সটাইল শিল্পে ব্যবহৃত ক্ষতিকর এজো ডাইয়ের পরিবেশ দূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। সেই দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন শিল্পনগরী নরসিংদীর মাটিতে জন্ম নেওয়া কৃতী সন্তান ড. আবু মোহাম্মদ আজমল মোর্শেদ। তিনি নরসিংদীর পলাশ থানাধীন ঘোড়াশাল পৌরসভার করতেতৈল গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা জনাব মোশাররফ উদ্দিন আহমেদ কমল মাস্টার এবং মা করতেতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রাফেজা হোসেন। শৈশব-কৈশোরের শিক্ষাজীবন পেরিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন গৌরবের সাথে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-এর রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইউজিসি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এক গবেষণায় তিনি বিশেষ কেটালিস্ট ব্যবহার করে ক্ষতিকর এজো ডাইকে ভেঙে বর্ণহীন ও তুলনামূলক অক্ষতিকর উপাদানে রূপান্তরের কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। শুধু তাই নয়, উৎপাদিত উপাদান পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে প্রসাধনী ও ওষুধ শিল্পে ব্যবহারযোগ্য করার সম্ভাবনাও তুলে ধরেন তিনি। গবেষণালব্ধ ফলাফল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় যখন বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা সংস্থা American Chemical Society–এর জার্নাল ACS Omega-এ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ১৬ পৃষ্ঠাব্যাপী গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। ড. আজমল মোর্শেদ ভারতের Aligarh Muslim University থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ভৌত রসায়নে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। পরবর্তীতে পিএইচডি সম্পন্ন করে দক্ষিণ কোরিয়ার Hanyang University থেকে পোস্টডক্টরেট সম্পন্ন করেন। নরসিংদীর মতো শিল্পসমৃদ্ধ জেলায় টেক্সটাইল শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব একটি বড় বাস্তবতা। সেই প্রেক্ষাপটে জেলারই একজন কৃতী সন্তানের এমন গবেষণা স্থানীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সচেতন মহল মনে করছে, এ অর্জন নরসিংদীর শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। নরসিংদীর মানুষ তাঁদের এই কৃতী সন্তানকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন—তার হাত ধরেই একদিন পরিবেশবান্ধব টেক্সটাইল শিল্প গড়ে উঠবে, আর বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের নাম।




























