
জাহিদ হাসান মুক্তার, পাকুন্দিয়া সংবাদদাতাঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া–কটিয়াদি) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই শেষ পর্যায়ে এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে প্রচারণা, গণসংযোগ ও শক্তি প্রদর্শনের লড়াই। প্রতিটি দলই নিজ নিজ অবস্থান থেকে মিছিল, সভা-সমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছে।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনে এবার মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন (ধানের শীষ),
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মোড়ল (দাঁড়িপাল্লা),জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন ভূঁইয়া (লাঙ্গল),ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী আবুল বাশার রেজওয়ান (হাতপাখা),
গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম (ট্রাক),
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন (টেলিভিশন), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনিসুজ্জামান খোকন (ময়ূর) এবং নূর উদ্দীন আহমেদ (মোটরসাইকেল)।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল লড়াইটি হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।
এলাকাজুড়ে প্রার্থীদের গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশে ভোটারদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও সক্রিয় কর্মীসমর্থনের মাধ্যমে মাঠে ভালো অবস্থান তৈরি করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিমত। অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থীও দীর্ঘদিনের গণভিত্তিক সমর্থন ধরে রেখে সমানতালে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাকুন্দিয়া উপজেলা সদর ঈদগাহ মাঠে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে জনসভা করেন ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন। একই দিনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল কটিয়াদি উপজেলায় বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে গণমিছিল করেন।
পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদি ডিগ্রি কলেজ মাঠে ধানের শীষের জনসভা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। একই দিনে জামায়াত প্রার্থী পাকুন্দিয়া উপজেলায় আবারও বিশাল গণমিছিল করেন। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় উভয় শিবিরই দাবি করছে—কর্মী ও সমর্থনে তারা কারও থেকে পিছিয়ে নেই।
পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও এলাকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই এবার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়। ফলে শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।
এদিকে অনেকেই মনে করছেন, এ আসনে ধানের শীষের সমর্থক সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তবে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে রয়েছে একটি নীরব ভোটব্যাংক—বিশেষ করে নারী ভোটার ও তরুণ যুবসমাজ। এই নীরব ভোটই শেষ মুহূর্তে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বড় ধরনের চমক বা ‘বিপ্লব’ ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিএনপি আরও কৌশলী না হলে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে।
পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদি উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-২ আসনে রয়েছে মোট ভোটার: ৫,৩২,৫১৬ জন। পুরুষ ভোটার: ২,৬৮,৫৬৮ জন
মহিলা ভোটার: ২,৬৩,৯৩৯ জন
তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ৯ জন
এ আসনে মোট ১৭০টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ-২ আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে ভোটের দিন—নীরব ভোট নাকি প্রকাশ্য জনসমর্থন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।


































