
সাইদুল ইসলাম,কসবা উপজেলা প্রতিনিধি পবিত্র কোরআনুল কারীম হিফজ সম্পন্ন করতে যেখানে সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগে, সেখানে মাত্র ১১ মাসে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করে হাফেজা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ১০ বছর বয়সী মোছাঃ বুশরা আক্তার। তার এ অসাধারণ কৃতিত্বে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।বুশরা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি উত্তর-পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা আবু নাসার সরকার একজন ওমান প্রবাসী এবং মা হাবিবা ইসলাম গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই বুশরা মেধাবী ও মনোযোগী হিসেবে পরিচিত ছিল। ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি তার ছিল গভীর আগ্রহ। স্থানীয় কুটি নূরে হেরা মহিলা মাদরাসা থেকে সে প্রথমে কায়দা শিক্ষা গ্রহণ করে। এরপর আমপারা ও নাযেরা সম্পন্ন করে গত বছরের মার্চ মাসের শেষ দিকে হিফজ শুরু করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র ১১ মাসের ব্যবধানে সে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ শেষ করে হাফেজা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।মাদরাসাটির পরিচালক ও তার শিক্ষক মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, আল্লাহর খাস রহমত না থাকলে এত অল্প সময়ে কেউ পবিত্র কোরআনের হাফেজা হতে পারে না। এটি সম্পূর্ণ আল্লাহর অনুগ্রহ। বুশরা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মনোযোগী ছাত্রী। সে নিয়মিত তার সবক মুখস্থ করার পাশাপাশি আগের পড়া বারবার মুরাজাআ করত। আমি সবার কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন তাকে কবুল করেন এবং ভবিষ্যতে সে আরও বড় হয়ে দ্বীনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে। বুশরার ভাই মো: নিশাদ সরকার জানায়, তাদের বংশে আগে কোনো হাফেজ বা আলেম না থাকলেও বুশরাই প্রথম এই মর্যাদা অর্জন করেছে। এতে তারা অত্যন্ত গর্বিত। প্রবাসে থাকা বাবা আবু নাসার সরকার মেয়ের এই সাফল্যে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন। মা হাবিবা ইসলাম বলেন, মেয়ের এমন অর্জন তাদের স্বপ্নপূরণ করেছে।বুশরার চাচাত ভাই ইমতিয়াজ ইসলাম রাজু বলেন, আমাদের গ্রামের গর্ব আমাদের চাচাত বোন বুশরা আক্তার। এত অল্প বয়সে সে পবিত্র কোরআনের হাফেজা হয়েছে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। আমরা সত্যিই বিস্মিত ও অভিভূত। দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চাই, যেন আল্লাহ তাকে কবুল করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় হয়ে দ্বীনের খেদমতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।সবমিলিয়ে, ছোট্ট বয়সে বুশরার এই অনন্য কৃতিত্বকে শিক্ষকরা আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বাবা-মায়ের দোয়ার ফল বলেই মনে করছেন। সবার প্রত্যাশা, হাফেজা বুশরা আক্তার ভবিষ্যতে আরও বড় হয়ে ইসলামের খেদমতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।



































