
মোঃ হাসানুজ্জামান গাংনী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী-এর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের একটি প্রবাদ রয়েছে, "অভাগা যেদিকে যায়, সাগরও শুকিয়ে যায়"এই প্রবাদটির সাথে হয়তো অনেকের জীবনের গল্প হুবহু মিলে যায়।কিছু মানুষের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যেন পিছু ছাড়ে না।পরিবারের চারজন সদস্যের মধ্যে তিনজনই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।শুধু একজনই রয়েছেন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।আর আয়ের একমাত্র উৎস হলো একটি পাখিভ্যান।কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস কয়েকদিন আগে একমাত্র ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়।বলছিলাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের মো: আব্দুল লতিব(৫৫) এর বাস্তব জীবনের গল্প।স্থানীয়রা জানান, গাংনী উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের ভ্যান চালক আব্দুল লতিবের ৪ সদস্য’র পরিবারে দুই ছেলে ও স্ত্রী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। লতিবের উপার্জনের এক মাত্র অবলম্বন পাখিভ্যান চুরি হওয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে কাটছে তাদের জীবন সংসার।ভ্যানটি হারিয়ে যেনো এখন পড়েছেন অথৈ সাগরে। একদিকে সমিতির কিস্তি অন্য দিকে খাদ্য সংকট সব মিলিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। কয়েক মাস আগে একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি কিনেছিলেন তিনি।ঋণের টাকাও পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।ভ্যানচালক আব্দুল লতিব বলেন, আমাদের ঘর ভাঙ্গাচোরা, সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। ভ্যানটা ছিল, সেটাও চুরি হয়ে গেছে। এক বেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।কষ্টের এই গল্পগুলো এখন কাকে শোনাবো।নিজের সাথে নিজেই গল্প করতে হয়।অন্যের সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া এখন চলা আমার পক্ষে আর সম্ভব নয়।স্থানীয় হাসান আলী জানান, মাঠের মধ্যে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন আব্দুল লতিব ও তার পরিবারের সদস্যরা। বৃষ্টি এলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। আর কালবৈশাখী ঝড় উঠলেই আতঙ্কে রাত কাটে তাদের। একটাই ভয় কখন ঝড়ে উড়ে যাবে মাথার ওপরের একমাত্র আশ্রয়টুকু।এর সাথে থাকে সাপ আতঙ্ক। এই দুঃসহ জীবন যাপনের মধ্যে চোরের কবলে পড়ে হারাতে হয়েছে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান। গত মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে বাড়ি থেকে চোরের দল চুরি করে নিয়ে যায় আব্দুল লতিবের ব্যাটারি চালিত ভ্যানটি।মো: আরোজ আলী বলেন, আব্দুল লতিব ও তার পরিবার অত্যন্ত অসহায়। ভ্যান চালিয়েই তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন ভ্যানটি না থাকায় তারা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের বসতঘরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।সবাইকে এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো দরকার। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।উপজেলার কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, সংসার জীবনের প্রায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্যাডেলচালিত (পায়ে চালিত) ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে কয়েক মাস আগে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নও ভেঙ্গে যায়।রাতের আঁধারে চোরেরা ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়। যা ছিল তার পরিবারে সদস্যদের জন্য দু-মুঠো খাবার জোগানোর একমাত্র ভরসা। এখন তিনবেলা খাবার জোটানো কঠিন হয়ে গেছে তার।আব্দুল লতিবের দুই ছেলে ও স্ত্রী অন্ধ।একেবারেই চলাফেরা করতে পারে না।আমার পক্ষ থেকে যতটুকু পারি তাদের সহযোগিতা করবো।গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন বলেন, ভ্যানটি উদ্ধারের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, এবং বিভিন্নভাবে আমরা সোর্স লাগিয়ে রেখেছি ভ্যানটি উদ্ধারের জন্য।গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ভ্যানটা চুরি হয়ে যাওয়াই আব্দুল লতিব পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে রয়েছে। আর ভ্যানটা চুরি হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।আমাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু পারি পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে।




























