
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার শহীদ আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম (রুবেল) দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তার নামে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে স্ত্রীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পাঁচ দিনের ছুটির আবেদন করেন আবুল কালাম। এরপর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। প্রায় পাঁচ মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে না থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবুল কালাম আত্মগোপনে যান। পরে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন বলেও দাবি করা হয়। তবে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত দেখিয়ে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে নিয়মিত সরকারি অংশের বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এ অভিযোগে আরও বলা হয়, সহকারী শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখিয়ে বেতন উত্তোলনে সহযোগিতা করছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন। তবে বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে শহীদ আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন বলেন, “ডিসেম্বরে স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে গেছেন। তিনি আগামী ২৮ তারিখ ফেরার কথা জানিয়েছেন।” তবে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কালামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।পাকুন্দিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁঞা বলেন, “পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে প্রায় পাঁচ মাস অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের সুযোগ নেই। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুপম দাস বলেন, “শিক্ষক অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন—এ বিষয়টি আমি এখনই জানতে পারলাম। অভিযোগ সত্য হলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























