
স্টাফ রিপোর্টার সুনামগঞ্জ-১(তাহিরপুর–জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা–মধ্যনগর) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই জামায়াতে ইসলামী আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকলেও,সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ আসনে আনিসুল হকের নাম ঘোষণা করে। এতে বিএনপি-জামায়াত সমঝোতা ভেঙে উভয় দলের প্রার্থীই লড়াইয়ে নামছেন।
উভয় প্রার্থীর বাড়ি তাহিরপুর উপজেলার একই এলাকায় হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক মাঠ আরও চাঙা হয়ে উঠেছে। দুই প্রার্থীই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে জনগণের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয়দের মতে,বিএনপির দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় ভোট এবং জামায়াতের সংগঠিত ভোট দুটিই এ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
তবে ভোট সমীকরণের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটারদের অবস্থান নিয়ে। এ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের সুসংগঠিত ও বৃহৎ ভোটব্যাংক থাকলেও দলটির নির্বাচনের সুযোগ না থাকায়।আওয়ামী লীগ সমর্থিত সেই বিশাল ভোটের ধারা কোন দিকে যাবে তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
তাহিরপুরের ভোটার আবদুল কাদির বলেন,আমরা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগকে ভোট দেই। কিন্তু এবার দল নেই। তাই মাঠের অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।অন্যদিকে মধ্যনগরের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান,ভোট দিতে গেলে তো কাউকেই দিতে হবে। দেখি এলাকার উন্নয়ন কে করতে পারবে, তারপর ভোট দেব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুনামগঞ্জ-১ আসনের ফল নির্ভর করবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীরব ভোটারদের সিদ্ধান্তে, প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের প্রচার এবং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর। কেউ কেন্দ্রবিমুখ হতে নাও হতে পারেন,আবার কেউ নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন ফলে ভোট ভাগাভাগির সম্ভাবনাও প্রবল।
সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনে প্রতিযোগিতা এখন শুধু দলীয় নয়,বরং ব্যক্তিত্ব,জনপ্রিয়তা ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির লড়াইয়ের দিকেই যাচ্ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে,হাওর জনপদের রাজনীতিও ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।





























