
আহম্মদ কবির,সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের বিশ্ব ঐতিহ্যখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরে অবৈধ জেলেদের স্থাপনা ও নিষিদ্ধ জালের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। হাওরের বিভিন্ন এলাকায় কিছু অসাধু জেলে বাঁশ, টিন ও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করে অবাধে মাছ শিকার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে জেলেরা চায়না দুয়ারি জাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ ধরছে। নিষিদ্ধ এসব জালের মাধ্যমে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও পোনা একসঙ্গে ধরা পড়ায় হাওরের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
পরিবেশ সচেতন মহল বলছে,টাঙ্গুয়ার হাওর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার সাইট। এখানে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু হাওরের ভেতরে অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে তুলে দিন-রাত মাছ শিকারের ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে জলজ প্রাণী ও পরিযায়ী পাখির আবাসস্থলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাওর পাড়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল থাকায় কিছু জেলে দীর্ঘদিন ধরে হাওরের ভেতরে ডেরা স্থাপন করে অবাধে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করছে। এতে করে হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে,নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদি হাসান মানিক বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে অবৈধ মৎস্য আহরণ ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার রোধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে টাঙ্গুয়ার হাওর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।




























