
কবির হোসেন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোর থেকে ফের দূরপাল্লার বাস বন্ধ রয়েছে। এবার বাস বন্ধ করে দিয়েছেন খোদ মালিকেরাই। এতে শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে বাড়ি ফিরতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিকল্প উপায়ে তারা বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছেন।
বর্তমানে শুধু একতা পরিবহনের বাসগুলো চলছে। এছাড়া ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলছে লোকাল বাস। অন্য পরিবহনের বাসগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব বাসের মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের টানাপোড়েন চলছে। কবে বাস চালু হবে তা কেউ বলতে পারছেন না।
এর আগে চলতি মাসেই বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দুই দফা দূরপাল্লার বাস বন্ধ করে দেন চালক, হেলপার ও সুপারভাইজাররা। মালিকপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা অযৌক্তিক দাবি সামনে আনছেন যা মেনে নেওয়া সম্ভব না। শ্রমিকদের সঙ্গে না পেরে তারা নিজেরাই এবার বাস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন মালিকদের দাবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজশাহী-ঢাকা রুটে চালক প্রতিটি ট্রিপে ১ হাজার ২৫০ টাকা, সুপারভাইজার ৫০০ টাকা এবং সহকারী ৪০০ টাকা পান। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে তিন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস চালানো বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। দুইদিন পর মালিকপক্ষের আশ্বাসে তারা ফের বাস চালানো শুরু করেন। কিন্তু আশ্বাস অনুযায়ী বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা না হলে ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ফের কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।
শ্রমিকদের দুইদফা আন্দোলনের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মালিক-শ্রমিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে চালককে ১ হাজার ৭৫০ টাকা, সুপারভাইজারকে ৭৫০ টাকা ও সহকারীকে ৭০০ টাকা দেয়া হবে। মালিকদের অভিযোগ, বেশি বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শ্রমিকেরা বিনাটিকিটের যাত্রী তুলছিলেন। আর শ্রমিকদের অভিযোগ, বাড়তি টাকা দেওয়ার কথা হলেও বাস্তবে তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন মালিকেরা। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বাস বন্ধই ছিল। রাজশাহী নগরের শিরোইল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বাস বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। চাপ বেড়েছে একতার বাসে। এছাড়া কষ্ট করে অনেকে লোকাল বাসে ওঠার চেষ্টা করছেন। তবে বাড়তি চাপে লোকাল বাসেও ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজশাহীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা রনজিত কুমার রায়। তিনি বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, লোকাল বাস শুধু ঢাকার দিকে যায়। আমি পূজার ছুটিতে যাব সুনামগঞ্জ। সেদিকে কোনো সরাসরি বাস নেই। আমাকে কষ্ট করে যেতে হবে।
রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, আমাদের শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির কথা হয়েছে। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগেই মালিকপক্ষ হঠাৎ করে বাস বন্ধ করে দিয়েছে এই বলে যে তারা বাড়তি বেতন দিতে পারবে না। এখন শ্রমিকেরা বসে আছে। গাড়ি চালালে তারা চালাবে। তা না হলে তো মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে।
তবে বাস বন্ধের কারণ অন্য বলে জানাচ্ছেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি বজলুর রহমান রতন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে গত মঙ্গলবার ঢাকায় বসা হয়েছিল। তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সভা সুন্দরভাবেই শেষ হয়। এরপর বাস চলাচলও শুরু হয়। কিন্তু বাড়তি বেতন দেওয়ার কথা হওয়ার পর এখন শ্রমিকেরা যেখানে সেখানে বিনাটিকিটে যাত্রী তুলতে চাইছে। খোরাকি ভাতা দাবি করছে। এসব তো মেনে নেওয়া সম্ভব না।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের সাথে যুদ্ধ করে এভাবে বাস চালাতে চাই না। কয়দিন বসে থাকবে থাকুক।





























