
মো আনিছুর রহমান (স্টাফ রিপোর্টার) ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
বছরের প্রথম সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নীচে তলিয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক। রয়েছে কাঁদার ভোগান্তিও। থমকে দাঁড়িয়েছে সবকিছু। জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বিষন্ন মনে কাঁদা পানির চিত্র দেখছেন ব্যবসায়িরা। ভেস্তে গেছে ঈদ বাজার। এর জন্য দখল দূষণ আর অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়িরা।
সরজমিন অনুসন্ধান ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সরাইল সদরের সরকারি খাল ও একাধিক ব্যক্তি মালিকানা পুকুর জলাশয় ভরাট করে ফেলেছেন প্রভাবশালীরা। পরিবেশ আইন অমান্য করে শুধু ভরাটই করেননি। ওইসব জায়গায় গড়ে তুলেছেন মার্কেট বিপণী বিতান ও অট্রালিকা। স্থায়ী ইমারত নির্মাণ কালে অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা। নিজেদের মার্কেট ও অট্রালিকার পানি কোথায় যাবে? কিভাবে নিস্কাশন হবে? তাও ভাবেননি। আর এর খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ জনগণ। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থার জন্য সম্প্রতি দেড়/দুইশত পরিবার উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন। কোন প্রতিকার হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কেউই এগিয়ে আসেননি।
গতকাল শুক্রবার সকালে এ বছরের প্রথম বৃষ্টি হয় সরাইলে। বৃষ্টির পরই সরাইল সদরের হাসপাতাল মোড় থেকে সকাল বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কে প্রায় ৩-৪ ইঞ্চি উচ্চতার কাঁদার স্তর পড়ে। আর অন্নদা স্কুল মোড়ের আশে পাশে প্রায় ২-৩শত গত পরিমাণ সড়ক বৃষ্টির পানিতে তরিয়ে যায়। সড়কের পাশের অনেক দোকানে পানি প্রবেশ করে। অনেক দোকান মালিক পানি আটকানোর জন্য বাহিরে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
ঈদ-উল-ফিতরের জমজমাট বাজারের ক্রেতাসহ সাধারণ জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। কারণ শুধু পানি নয়। সড়কের অনেক জায়গায় কাঁদার স্তর ভেদ করেই নারী পুরূষ ও শিশুদের চলতে হচ্ছে। সকলের গাঁয়ের পোশাকই কাঁদা পানিতে একাকার। দুপুরের আরেক পশরা বৃষ্টির পর আবারও স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। অন্নদা স্কুল মোড়, মুন্সি মার্কেট, বকুলতলা, দেওয়ান মার্কেট, বিকাল বাজার, সকাল বাজার সর্বত্রই ক্রেতাদের দুর্ভোগ।
সমাজকর্মী মো. রওশন আলীসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট খাল দখলের কারনে পানি নিস্কাশন বন্ধ ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এই করূনপতি। খাল উদ্ধারে কোন ব্যবস্থা কেউই নেননি। এরপর বাজারের পানি তড়িৎ নিস্কাশনের সঠিক কোন ব্যবস্থাও দেখছি না। আমরা অভাগা সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে ভাসতে থাকি। একাধিক ব্যবসায়ি বলেন, এখন বিক্রির পুরো সময়। আজকের সড়কের দূরাবস্থার কারণে শতশত ক্রেতা ফিরে গেছেন। যারা আছেন তারাও খুবই কষ্ট করছেন। এভাবে বছরের পর বছর চলতে পারে না।
সরাইল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, অন্নদান মোড়ে ইউনিয়ন পরিষদের ফান্ড থেকে ৩ লাখ টাকায় কালভার্ট ড্রেন ও নিজসরাইল ব্রিজের নীচে ২ লাখ টাকা খরচ করে কাজ করেছি। দ্রূত গতিতে পানি সরে যাওয়ার কথা। কিন্তু স্লো গতিতে বাজারের পানি নিস্কাশনের জন্য ফুটপাত ও আশপাশের ব্যবসায়িদের অসচেতনতা দায়ী। তারা সকল প্রকার ময়লা আবর্জনা কাগজ এই ড্রেনে ফেলে জাম করে রেখেছেন।




























