
জামিনে মুক্ত হয়ে অপহৃত ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রীকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। বুধবার তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে আগামী রোববার রিমান্ড শুনানির দিন রেখে দুজনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন লতিফ সিদ্দিকী রতন ও সাব্বির। গত মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অপহরণ মামলার মূল আসামি আল আমিন ওরফে জিতু এখনো পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহাগকে ২০২৫ সালের ১ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের কলেজ রোড এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাঁকে পটুয়াখালীতে নিয়ে যান। পরদিন ২ জুন পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর ফেরিঘাট এলাকা থেকে একটি গাড়ির ভেতর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মো. সোহাগের স্ত্রী মোসাম্মৎ তানিয়া আহাম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর গ্রেপ্তার কয়েকজন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তবে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কয়েকজন আসামি জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগ রয়েছে, জামিনে বেরিয়ে তারা মূলহোতা আল আমিন ওরফে জিতুর নির্দেশে আবারও মো. সোহাগ ও তাঁর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে গত ১২ জানুয়ারি মো. সোহাগ ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
মামলার অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার আল আমিন ওরফে জিতু (৩০), শীতলক্ষা ‘ম’ খণ্ড এলাকার মো. সাকিব হোসেন (২৪), লক্ষ্মীপুরের মো. কবির হালদার (৪০), সৈয়দপুর কড়ইতলা এলাকার মো. ছাহাদ (২৩) এবং কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ইমরান হোসেন মোহন (৩১)।
ভুক্তভোগী মো. সোহাগ বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আলোচিত এই মামলায় জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের প্রকাশ্য হুমকি ও তৎপরতায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।





























