
সরকার পতনের সফল আন্দোলনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠন জাতীয় ঐক্য রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার কথা বললেও চার মাস না যেতেই ছন্দপতনের আভাস মিলতে শুরু করেছে।
সংগঠনগুলোর একটি অংশ আরেক অংশের বৈঠকে যাচ্ছে না; শুরুর মত তাদের ঐক্য আগের ধারায় আছে কি না সামনে এসেছে সেই আলোচনা।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলো নিজেদের মত কার্যক্রম শুরু করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও দেশজুড়ে তাদের সাংগঠনিক পরিধি বাড়াতে থাকে। সময়ে সময়ে সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে তারা।
৫ অগাস্ট পরবর্তী এই চার মাসে নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সংগঠনগুলো একদিকে যেমন যৌথ কিছু বৈঠক করেছে, তেমনি গত কয়েকদিন ভিন্ন কিছু ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
গত ৩ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে শুধু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের একটি অংশ মতবিনিময় করে।
পরদিন ছিল সরকার পতনে নেতৃত্ব দেওয়া এ সংগঠনের সভা। কিন্তু তাতে যোগ দেয়নি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ মূলধারার বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠন। অবশ্য ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা সভায় ছিলেন।
একদিন পর ৫ ডিসেম্বর ছাত্রদলের নেতৃত্বে ২৮টি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীতে মতবিনিময় সভা করেন, যেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেউ আমন্ত্রণ পাননি। ছিলেন না ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেউ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ ডিসেম্বর বিপ্লবোত্তর ছাত্র ঐক্য শীর্ষক আলোচনায় একই মঞ্চে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামি ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ ডিসেম্বর বিপ্লবোত্তর ছাত্র ঐক্য শীর্ষক আলোচনায় একই মঞ্চে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামি ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
এসব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসহ ছাত্র রাজনীতির বিভিন্ন আলোচনায় প্রশ্ন উঠছে– তবে কি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে? ঐক্যে কি তবে ফাটল ধরছে?
এ প্রশ্নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করা নিয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে ‘কিছু ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে। এ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন ‘এক ধরনের সংকটের মধ্যে’ আছে।
“তবে এ সংকটাবস্থা দ্রুত কাটিয়ে সব ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে ‘জাতীয় ছাত্র কাউন্সিল’করার আশা করছি আমরা।”
জাতীয় স্বার্থেই সবাই ঐক্যে পৌঁছাবে– এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে প্রধান উপদেষ্টার মিটিংয়ের বিষয়ে কিছুটা ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন এমনটা না হয় সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে।"
কেন এমন দূরত্ব তৈরি হল? ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বললেন, প্রধান উপদেষ্টা ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আলোচনার নামে আলোচনা করেছেন কেবল কয়েকজন সমন্বয়কের সঙ্গে।
ছাত্রদলের নেতৃত্বে রাজধানীর কাঁটাবনের গ্লোরিয়াস সেন্টারে বৃহস্পতিবার ২৮ ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
ছাত্রদলের নেতৃত্বে রাজধানীর কাঁটাবনের গ্লোরিয়াস সেন্টারে বৃহস্পতিবার ২৮ ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
“এতে জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখন একটি পক্ষের সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।”
বিদ্যমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ছাত্রদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে ‘নতুন করে ভাবতে হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ওই বৈঠকের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরফে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন কিংবা অভ্যুত্থানকারী সংগঠন হিসেবে নয়, বরং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট বজায় রাখতে সরকারের ভূমিকার ব্যাপারে পরামর্শ নিতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।”
তবে জাতীয় ঐক্যের জন্য যে ধরনের ‘দায়িত্বশীল আচরণ’ করা দরকার, তা অনেকে করছে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ বলেন, “সব ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠন সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আন্দোলনে যুক্ত ছিল। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর থেকেই আমরা অভ্যুত্থানের সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য একটা সাংগঠনিক কাঠামো নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তারা (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন) ঐক্য টিকিয়ে রাখতে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি।
“তারপরেও জাতীয় স্বার্থে, জনগণের বৃহত্তর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমরা তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছি।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করতে ৩ অগাস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন শিক্ষার্থীসহ আন্দোলনকারীরা। ফাইল ছবি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করতে ৩ অগাস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন শিক্ষার্থীসহ আন্দোলনকারীরা। ফাইল ছবি।
এই ছাত্রনেতা বলেন, “গত সপ্তাহে আমরা সকল ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে জাতীয় ছাত্র কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছিলাম। ওই সময় উপস্থিত ছাত্র সংগঠনের বেশির ভাগই সেই দাবিতে একমত ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সব ক্ষেত্রে নিজেদের গোষ্ঠীগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।
“৩ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোকে জানানোর প্রয়োজনও মনে করেননি তারা। তাই আমরা মনে করেছি, সবার মাঝে ঐক্য টিকিয়ে রাখার মত পরিপক্ব আচরণ তারা করেননি। তাই আমরা ৪ তারিখের বৈঠকে অংশ নিইনি।”
তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘ব্যর্থ করার সব অপচেষ্টার’ বিরুদ্ধে ছাত্রদের সংহতি জোরালো করতে আন্দোলনকারী সব শক্তির সঙ্গে পারস্পরিক আলাপ এগিয়ে নিতে তৎপর থাকার কথাও বলছেন সৈকত।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বৈঠকে অংশ নেয়নি বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।
এই জোটে রয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী), বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন (জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল), বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।
জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিকী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো একক দলের নয়, আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী সব ছাত্র সংগঠন নিয়ে গঠিত একটি প্ল্যাটফর্ম।
“৫ অগাস্টের পর বলা হয়েছিল, সব সংগঠনের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু দেখা গেছে, সব ছাত্র সংগঠনকে বাদ দিয়ে তারা এককভাবে অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ছাত্রসংগঠনগুলোর জাতীয় ঐক্য ভাঙার জন্য তারা দায়ী। তাদের এ অগণতান্ত্রিক আচরণের কারণে আজকের সভায় মূল ধারার প্রায় সব ছাত্র সংগঠন বয়কট করেছে।”
এমন অভিযোগের পরও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করতে হলে জোট তা করবে বলে মন্তব্য করেন সালমান।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নুজিয়া হাসিন রাশা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ‘সরকারের একটি অঙ্গ সংগঠনের মত’ মন্তব্য করে বলেন, “তাদের আর কোনো মিটিংয়ে সাড়া দিতে চাই না বা বসতে চাই না।”
তিনি বলেন, “৫ অগাস্টের পর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো কিছুতেই আমরা সাড়া দিইনি। আমরা আমাদের সংগঠন থেকে এ সংগঠনের বিলুপ্তিও চেয়েছিলাম।”
অন্যরা কেউ না এলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভায় অংশ নেয় ইসলামী ছাত্রশিবির। আবার ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠনের সভায় তারা ছিল না।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, সবারই নিজ নিজ সংগঠনের স্বার্থে সভা করার অধিকার আছে। সেখানে কারা দাওয়াত পাবে সেটা একান্তই নিজেদের বিষয়।
রাজধানীর বাংলা মোটরে গত ২৬ নভেম্বর অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ওই সভায় পরের এক সপ্তাহ ‘জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহ’ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজধানীর বাংলা মোটরে গত ২৬ নভেম্বর অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ওই সভায় পরের এক সপ্তাহ ‘জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহ’ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
“তবে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সবাই ধারণ করবে–সেটা আমাদের প্রত্যাশা। এখানে বিভেদ সৃষ্টি হয় এমন কাজ যদি কেউ করে থাকে, সেটা ছাত্র-জনতার উপর নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে।”
সাদিক মনে করেন, ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে, কিন্তু তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করারও সুযোগ রয়েছে।
ছাত্র রাজনীতিতে সংগঠনগুলোর ঐক্যের প্রশ্নে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, "ঐক্যের প্রশ্নে ছাত্রশিবির সবসময়ই উদারতার পরিচয় দিয়ে এসেছে, সেটা অতীত ইতিহাস থেকে এখন পর্যন্ত। কারো যদি উদারতার প্রশ্নে সংকীর্ণ মনোভাব দেখা যায়, সেটার দায় তো ছাত্রশিবিরের নয়।”
কিছু ছাত্র সংগঠন ‘লেজুরবৃত্তির বৃত্ত থেকে’ বের হতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, "একটি বিষয় হল আমরা ব্যক্তি এবং দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে অনেক সময় বের হয়ে উঠতে পারি না। আমাদের ছাত্র রাজনীতির বেশ কিছু জায়গায় লেজুড়বৃত্তির হতে হতে এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে লেজুড়বৃত্তির বাইরে আমরা কিছুই ভাবতে পারি না। এমন মনোভাব থেকে গেলে ঐক্যের বিষয়টি তাত্ত্বিক থেকে যায়, বাস্তবে আর সম্ভব থাকে না।"
গত নভেম্বরে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদ’ নামের একটি ছাত্র সংগঠন। নতুন এ ছাত্র সংগঠন মনে করছে, কোনো সংগঠন ‘একক প্রতিনিধিত্ব’ করলে সেটা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সংগঠনটির মুখপাত্র তাশাহুদ আহমেদ রাফিম বলেন, “গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ গঠনে সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব দরকার। আমরা সকলে মিলে একটি ফ্যাসিবাদী দলের বিরুদ্ধে লড়াই করে সফল হয়েছি, তবে ফ্যাসিবাদী পদ্ধতি এখনো দেশ থেকে পুরোপুরি উৎখাত হয়নি।”
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জুলাই মাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন পরিচালনার জন্য তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়। এ আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রূপ নেয়, যার ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনের অবসান হয়।
এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থাকবে কি না সেই আলোচনার মধ্যে এ প্ল্যাটফর্ম দেশজুড়ে তাদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে, গঠন করা হয়েছে আহ্বায়ক কমিটি।
বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ করছে সংগঠনটি, যেটি জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছিল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সভায় ছাত্রদলসহ কয়েকটি সংগঠনের যোগ না দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, “আমাদের জায়গা থেকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাদের যে প্রসঙ্গ নিয়ে অনাস্থা তৈরি হয়েছে তা নিয়ে আমাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সেল সম্পাদক জাহিদ আহসানের সইয়ে দেওয়া সেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, “অন্তর্বতীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র নেতৃবৃন্দের সভা নিয়ে মিডিয়ার অসংগত আচরণ ও শিরোনামে অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।”
‘কতিপয় মিডিয়া’ এ মতবিনিময় সভাকে ‘জাতীয় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গঠনের সভা’ হিসেবে প্রচার করায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিন্দা জানিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী এবং গণঅভ্যুত্থানে’ অংশ নেওয়া সব অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং সবার সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমেই জাতীয় ঐকমত্য গঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।







































