
বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার মনছপ বাজার-মধ্যম জোয়ারা সড়কের দু’পাশে ঝাউ গাছ লাগানোর কারণে সড়কটি দৃষ্টিনন্দন হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সড়কটির দৃশ্য প্রচার হওয়ার পর থেকে চন্দনাইশের বিভিন্ন এলাকা, পার্শ্ববর্তী পটিয়া, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, লোহাগাড়াসহ চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্রমন পিপাসু মানুষগুলো এসে এ সড়কে ভিড় জমায়।
প্রতি বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়লে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়ষ্ক লোকজনসহ শত শত মানুষ এ সড়কে একটু বিনোদনের জন্য ব্যাটারি রিকশা, অটোরিকশা, মোটর বাইক, বাইসাকেল, প্রাইভেট কারে করে যেতে যেতে এক সময় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। ভ্রমণ পিপাসু মানুষগুলো যে যার মত করে পায়ে হেঁটে বিনোদন করে।
একেকটি গ্রুপ একেক জায়গায় অবস্থান নিয়ে নিজেরাই গান বাজনা, আড্ডা, অল্প বয়সী কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে প্রেম আলাপে মসগুল থাকতে দেখা যায়। এ সকল ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য ঝাউ বাগান সড়কটিতে নেই কোন খাবার দোকান। প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কে কোথাও কোন বসতঘর না থাকায় এক সময় স্কুল ও কলেজ সময়ে অনেক শিক্ষার্থী তাদের বান্ধবীদের নিয়ে সময় কাটাত। স্থায়ী কোন দোকান পাট না থাকায় সম্প্রতি ঝাউ বিলাস রেস্টুরেন্ট নাম দিয়ে ১২০ টাকায় মুরগি বিরানী বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাদাম, চনাবুট, ঝালমুডি, নুডুলস, ফুসকা, নিজেদের তৈরী করা জুস, আচার ভ্যানে করে বিক্রি করছে অনেকে।
স্থানীয় রিকশা চালক ওসমান বলেছেন, এক সময় এ সড়কে স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীরা দুপুরবেলা একাকিত্বে সময় কাটাত। হঠাৎ করে গত একমাস ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক কলেজ গেইট ও চন্দনাইশ সদরে এসে ঝাউ বাগান কোথায় জিজ্ঞাসা করে এবং তাদের রিকশায় করে ঐ সড়কে যায়। প্রতি বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার প্রচুর লোক সমাগম হয়। তাদের বিকালবেলা আশা যাওয়া ১০ বার যাথায়ত করে থাকে বলে জানান। যেহেতু সড়কে কোন ধরণের সড়ক বাতি নেই বিধায় ভ্রমণ পিপাসুরা সন্ধ্যা নামলে স্থান ত্যাগ করে যে যার গন্তব্য স্থলে চলে যায়।
ভ্রমণে আসা নগরীর জানে আলম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ঝাউ বাগানের দৃশ্য দেখে তিনি তার ছেলে মেয়েদের নিয়ে এখানে এসেছেন। তার খুব ভালো লেগেছে বলে জানান। বোয়ালখালীর তাপস চৌধুরী তার মেয়েকে নিয়ে একইভাবে ঝাউ বাগান দেখতে আসেন। পটিয়ার আহমদ কবির তার পুত্র বধু ও বেয়াইকে নিয়ে প্রাইভেট কারে ঝাউ বাগান দেখতে এসে মানুষের উপস্থিতিতে সে মুগ্ধ হয়। বিশেষ করে মানুষ বিনোদনের জন্য কোন রকম স্থান না পেয়ে যেখানে একটু স্বস্তি মনে হয় সেখানে বিনোদনের জন্য যাচ্ছে মানুষ।
স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী আরফাত হোসেন বলেছেন, পটিয়া নাহার পার্কের মত এ সড়কের পাশে কিছু জায়গা নিয়ে উম্মুক্ত রেস্টুরেন্ট, বাচ্চাদের জন্য খেলার জায়গা, খেলনা রেখে বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করলে অনেক মানুষ এখানে আসত। শীত মৌসুমে অনেকে এ স্পটটিকে পিকনিক ষ্পট হিসেবে ব্যবহার করতে পারত বলে তিনি মনে করছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় জমির মালিক বা বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসলে এ ধরণের পার্ক সৃষ্টি করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি এ সকল ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা না হওয়ার জন্য সজাগ দৃষ্টি কামনা করেছেন।





























