
আরফাত হোসেন- বিশেষ প্রতিনিধি:
রমজানের শেষ সপ্তাহে রেমিট্যান্স সমৃদ্ধ উপজেলা চন্দনাইশের বিভিন্ন মার্কেটে চলছে ঈদের বেচাকেনা। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় মার্কেটগুলোতে। তবে মার্কেটে যে পরিমাণ ক্রেতা রয়েছে তাতেও বেচাকেনা কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চন্দনাইশের দোহাজারীতে হাজারী টাওয়ার, খান প্লাজা, হাজারী শপিং, সিটি সেন্টার, বৈলতলীতে ইউনুচ মার্কেট, সিরাজ মার্কেট, চন্দনাইশ সদর নিউ নিউ মার্কেট, মার্কেট, শাহ আমিন মার্কেট, খানহাটে গণি সুপার মার্কেট, ওয়ান আজিজ, বাছুরা শপিং, রিভাইন হাজী প্লাজা, এনু মিয়া শপিং কমপ্লেক্স, রওশনহাট, বরকল মৌলভি বাজার, বরমা ধামাইরহাট, সাতবাড়িয়া নাজিরহাটের ছোট-বড় দোকানে চলছে বেচাকেনা। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির একটি পরোক্ষ ছায়া এবারের ঈদবাজারে পড়ার আশঙ্কা করছেন চন্দনাইশের ব্যবসায়ীরা।
চন্দনাইশের প্রাণকেন্দ্র চন্দনাইশ সদর হলেও বেচা-কেনা বেশি হয় দোহাজারী ও খানহাট মার্কেটগুলোতে। বর্তমানে এ সকল শপিং মলগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই বললেই চলে। বিশেষ করে দোহাজারী সদর, খানহাটের মার্কেটগুলোতে প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি দর্জি বাড়িগুলোতেও কারিগরদের নাওয়া-খাওয়ার ফুসরত নেই। দিনরাত চলছে সেলাইয়ের কাজ।
ব্যবসায়ীরা জানান, এবার বিদেশি পোশাকের চেয়ে দেশীয় সুতি ও লিনেন কাপড়ের থ্রি-পিস এবং ডিজাইনার ড্রেসের চাহিদা তুঙ্গে। নারীদের পছন্দে রয়েছে বাহারি সিল্ক, কাতান এবং বুটিকসের কাজ করা কামিজ। পুরুষদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সুতি সুতি পাঞ্জাবি ও পায়জামা যার দাম (৮'শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত)।
ব্র্যান্ডের শপের পাশাপাশি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ভরসা হয়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান ও ফুটপাত, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে মিলছে শিশুদের পোশাক।
বর্তমানে ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ কর্মরত। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতে কয়েকটি নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাপে পড়েছে। এতে অনেক প্রবাসীর বেতন অনিয়মিত হওয়া বা কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অনিশ্চয়তার কারণে অনেক পরিবার এবার বিলাসিতা কমিয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার চেষ্টা করছে।
ক্রেতারা জানান, কসমেটিকস, পারফিউম ও নামী ব্র্যান্ডের জুতোর দাম গত বছরের চেয়ে ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম অনেক বেশি হওয়ায় গয়নার বাজারে মন্দা দেখা দিয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সংকটে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কায় জেনারেটর খরচ বাড়লে পণ্যের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খানহাট ও দোহাজারী সদরের ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত ১৫ রোজার পর ভিড় বাড়ে, কিন্তু এবার মানুষ আগে ভাগেই বাজারে এসেছে। তবে গত বছরের তুলনায় কাপড়ের দাম কিছুটা চড়া বলে অভিযোগ করেছেন কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণীরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, ঈদবাজারে জাল টাকার বিস্তার রোধ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি প্রয়োজন। যুদ্ধের কালো মেঘ আর মূল্যস্ফীতির শঙ্কা সত্ত্বেও ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবের টানে চন্দনাইশ ঈদবাজার এখন উৎসবমুখর।




























