
যানজটহীন ঢাকা-গাজীপুর রুটের স্বপ্ন দেখানো বিআরটি প্রকল্প এখন ভোগান্তির নতুন নাম। ১৩ বছরে ছয়বার মেয়াদ বাড়ানো এই প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। খরচ বাড়লেও সংকীর্ণ লেনে যান চলাচল বাড়ায় দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।
ঢাকার যানজট এড়িয়ে দ্রুত গাজীপুরে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই বিআরটি প্রকল্প এখন কার্যত সাধারণ মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে বিশেষায়িত বিআরটি বাস চলাচলের কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে ২৫টি স্টেশন ও সাতটি ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হলেও নকশা পরিবর্তন ও দুর্ঘটনার কারণে এক যুগেও প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ছয়বার সময় বাড়ানোর পরও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।
২০২৪ সালে তড়িঘড়ি করে ফ্লাইওভারসহ কিছু অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলেও প্রকল্প এলাকায় এখনো ভোগান্তি স্পষ্ট। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, লিফট না থাকা, সিঁড়ির পথ বন্ধ হয়ে ভবঘুরেদের বসবাস; সব মিলিয়ে দুর্ভোগ বাড়ছে। সংকীর্ণ লেনে এলোমেলো গাড়ি চলাচলের কারণে ঝুঁকিও বাড়ছে।
সাধারণ মানুষ বলছেন, মাঝখানের রাস্তায় দুই দিক থেকে গাড়ি আসে। একদিকে সিগন্যাল মেনে চললেও অন্য দিক থেকে গাড়ি ঢুকে পড়ে, এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
সরকার পরিবর্তন হলেও গাজীপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এই বিআরটি প্রকল্পে দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এক যুগ পার হলেও এখনো বিশেষ বাস লেন চালু হয়নি। সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে, কিন্তু স্বস্তি মেলেনি সাধারণ মানুষের।
প্রকল্প নিয়ে কখনো ঠিকাদারকে, কখনো সরকারকে দায়ী করা হলেও প্রকল্প পরিচালক বলছেন, প্রকল্পের নির্দিষ্ট মেয়াদই নেই। সওজের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বিআরটি প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘মূল প্রকল্পের মেয়াদটা আগে বাড়াতে হবে। ঠিকাদারের সঙ্গে বিভিন্ন অনুমোদনের বিষয় রয়েছে, সেগুলো উপস্থাপন করা হচ্ছে। অনুমোদন না হলে কাজ এগোনো সম্ভব নয়। অনুমোদন পেলে তারপর পরবর্তী কাজ করা যাবে।
এই প্রকল্পের শুরু থেকেই গলদ ছিল বলে মনে করেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল হক। তিনি বলেন, দ্রুতগতিতে ফিজিবিলিটি করে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনায় ত্রুটি থাকায় বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ হয়েছে।
পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই একটি লেন খুলে দেয়ায় সাময়িক সুবিধা হলেও তা অনিরাপদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিশেষায়িত বাসের জন্য আলাদা লেনের এই প্রকল্প বাস্তবে জনবান্ধব হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

































