
নারায়ণগঞ্জে ২০ এপ্রিল থেকে ১১ দিনব্যাপী হাম–রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। এই সময়ে জেলার পাঁচটি উপজেলায় (সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়া) ২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৮৬ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার বেলা ১১টার দিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব কম। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে এ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে তিনজন শিশু ভর্তি রয়েছে। জেলায় পর্যাপ্ত টিকা মজুদ আছে বলেও তিনি জানান।
ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম আট দিন অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এক ডোজ হামের টিকা দেওয়া হবে। পরবর্তী তিন দিন একই বয়সী বিদ্যালয়গামী শিশুদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকা দেওয়া হবে। যেসব শিশু বাদ পড়বে, তারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিদিন ১৩২টি টিম কাজ করবে। জেলায় অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র রাখা হয়েছে ১ হাজার ৫৬টি। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন টিকাদানকর্মী ও দুজন স্বেচ্ছাসেবকসহ অন্তত তিনজন দায়িত্ব পালন করবেন। শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এর আগে ১৬ এপ্রিল সিভিল সার্জনের সভাপতিত্বে জেলা পর্যায়ে এ ক্যাম্পেইন ঘিরে অ্যাডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়েও ওরিয়েন্টেশন ও প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন হয়েছে।
জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, গণমাধ্যম প্রচার, বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন বলেন, হাম ভ্যাকসিন নিরাপদ। এই কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জানা গেছে, সোমবার রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


























