
স্টাফ রিপোর্টার ও ফুলপুর প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ফুলপুরে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় রুবেল মিয়া (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪'র কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৮ টার দিকে জেলার ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
সুত্র জানায়, রবিবার (২৯ মার্চ) উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের বড় শুনই গ্রামে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিন রাতেই কিশোরী অভিযুক্ত রুবেলের বাড়িতে গিয়ে কিটনাশক পান করেন। পরে সোমবার (৩০ মার্চ) ভোররাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরী মারা যায়।
কিশোরী ও রুবেল মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা। তারা একে অপরের প্রতিবেশি। রুবেল মিয়া দুই সন্তানের বাবা বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে ওই কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে ফুলপুর থানায় রুবেল মিয়াকে আসামি মামলা দায়ের করেন।
মামলা সুত্র জানায়, ঘটনার দিন রাতে ওই কিশোরীর দাদী রাত ১০ টার দিকে নাতনিকে ঘরে না পেয়ে খুঁজতে বের হলে বাড়ির পাশে জলাশয়ের পরিত্যক্ত জায়গায় তাদের একসাথে অনৈতিক অবস্থায় দেখতে পায়। দাদীর উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজনেই পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে ওই কিশোরী বাড়িতে এসে তার দাদীকে জানায় রুবেল আমার সব শেষ করে দিছে এই জীবন দিয়ে আমি কি করবো এবং এর আগে সে কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক (বিষ) পান করেছে বলে জানায় এবং সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয় সুত্র জানায়, বিষপানে অসুস্থ অবস্থায় রবিবার রাত ১১টার পর কিশোরীকে প্রথমে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপালে ভর্তি করা হয়। পরে সোমবার ভোররাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরী মারা যায়। পরে ওই দিন ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যার পর মরদেহ নিয়ে থানার সামনে গিয়ে স্বজনেরা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করে। এসময পুলিশ মরদেহ দাফনের পর থানায় আসার জন্য পরামর্শ দিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠান। রাত সাড়ে আটটার দিকে নিহত কিশোরীর মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মরদেহ দাফন করে থানায় মামলা করার জন্য জন্য আসেন।
ময়মনসিংহ র্যাব-১৪'র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত। মামলার ২৪ ঘন্টা পেরোনোর আগেই আসামি রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




























