
মোঃ কাওছার, আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ
১৯৩৮ সালে ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ ঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত নৌরুট চালু হওয়ার পর সান্তাহার–লালমনিরহাট রেলপথের বোনারপাড়া জংশন থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার নতুন শাখা রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এর ফলে তিস্তাঘাট ও বাহাদুরাবাদ ঘাটের মাধ্যমে ঢাকা–উত্তরবঙ্গ রেল ও নৌ যোগাযোগে নতুন গতি আসে।
স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিস্তা মুখ ঘাট এলাকায় ভরতখালী রেল স্টেশন স্থাপন করা হয়। এই স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে নৌ ও রেল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ বিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
তবে ১৯৯৭ সালে তিস্তা নদীর নাব্যতা সংকট তীব্র আকার ধারণ করলে তিস্তামুখ ঘাটের পরিবর্তে বালাসিঘাট ঘাটে নৌরুট স্থানান্তর করা হয়। একই সময়ে যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে এই নৌ–রেল নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ভরতখালী রেল স্টেশনের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা স্টেশনটি এখন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে রেললাইনের বিভিন্ন অংশ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মূল্যবান আসবাবপত্র চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রেলওয়ের জমির কিছু অংশ দখল হয়ে যাওয়ার কথাও বলছেন এলাকাবাসী।
ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান : ফারুক হোসেন বলেন,স্টেশনটি একসময় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এটি এখন ধ্বংসের মুখে। রেল কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, না হলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পদ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,স্টেশন বন্ধ হওয়ার পর থেকেই এখানে নজরদারি কমে গেছে। বিভিন্ন সময় রেললাইনের জিনিসপত্র খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এখন জায়গাটিও ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে।”
এদিকে বোনারপাড়া রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা স্টেশন ও রেল অবকাঠামোর বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। তবে নদীর নাব্যতা সংকট, রুট পরিবর্তন এবং বর্তমান যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে ভরতখালী রেল স্টেশনের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা স্টেশন ও রেল সম্পদ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।






























