
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৫নং বল্লমঝাড় ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান। তাঁর নেতৃত্বে চলমান অভিযানে ইতোমধ্যে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সেবন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ফলে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে যুবসমাজ, নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক নির্মূলে চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এলাকার তরুণরা জানান, আগে বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের ঘটনা দেখা গেলেও এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। স্থানীয় এক শিক্ষার্থী বলেন, “চেয়ারম্যান চাচা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আমরা এখন অনেক নিরাপদ বোধ করি এবং পড়াশোনার পরিবেশও আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।”
আরেক যুবক বলেন, “মাদক আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছিল। এখন আমরা খেলাধুলা ও সামাজিক কাজে বেশি সময় দিচ্ছি, যা সম্ভব হয়েছে এই উদ্যোগের কারণে।”
এলাকার প্রবীণ ও সাধারণ মানুষ চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের নিয়ে আগে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতাম। এখন অনেকটা নিশ্চিন্ত। চেয়ারম্যান সাহেব যেভাবে কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
এক নারী বাসিন্দা বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এমন নেতৃত্ব খুব প্রয়োজন। আমরা চাই এই কার্যক্রম আরও জোরদার হোক।”
গাইবান্ধা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। বল্লমঝাড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান যেভাবে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কাজ করছেন, তা একটি দৃষ্টান্ত। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।”
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান বলেন, “মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস নেই। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় কঠোরভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, “আমি চাই বল্লমঝাড় ইউনিয়নকে একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত, শিক্ষাবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”




































